সম্পাদকীয়

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো হোক

দেশে ডায়াবেটিস রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আট বছরের ব্যবধানে এই বৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি। অথচ রোগটি যে প্রতিরোধযোগ্য, সে ব্যাপারে দেশের বেশিরভাগ মানুষের ধারণা নেই। রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো গত্যন্তর থাকে না। এমন সংকট সমাধানে জনসচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
আশির দশকে মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশ, তারপর ২০১০ সালে তিন দশমিক ৯ শতাংশ এবং বর্তমানে আট বছরের ব্যবধানে দেশে এখন মোট ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা এক কোটি বা মোট জনসংখ্যার আট দশমিক চার শতাংশ; অর্থাৎ এই আট বছরে বৃদ্ধির হার দ্বিগুণের বেশি দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে প্রতি বছর আরও এক লাখ রোগী যুক্ত হচ্ছে। ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমান বিশ্বে নবম। এর সঙ্গে প্রি-ডায়াবেটিসের হার বেড়েছে আরও ১০ শতাংশ। এই চিত্র নিশ্চয়ই শুভকর নয়। ডায়াবেটিস হাসপাতাল স্থাপনসহ বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও সরকার নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো ওষুধ সরবরাহ করে আর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে কি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব? আবার প্রতিরোধ ছাড়া রোগ ছড়িয়ে পড়ার হার কামানোও সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানোর ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। সচেতনতার দিক দিয়ে শহর কিংবা গ্রাম সবখানেই খারাপ দশা। দেখা গেছে, শহুরে শিক্ষিত-সচেতনদের মধ্যেই এ রোগ ১০ শতাংশ ছুঁয়েছে। আর গ্রামের পরিশ্রমী কিন্তু অসচেতন মানুষদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব আট শতাংশ। উল্লেখ্য, এভাবে ডায়াবেটিস বাড়তে থাকলে দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হবে। এমনকি, এ রোগে আক্রান্ত হলে হার্ট অ্যাটাক, কিডনির অক্ষমতা, অন্ধত্ব, পায়ে পচন ও পা কেটে ফেলার মতো দুরারোগ্য ব্যাধির জন্ম হয়। জনসচেতনতা আর জনসম্পৃক্ততাই এ সংকট সমাধানের মূল কথা। কিন্তু একটি জনগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি সামষ্টিক কাজ। আর সামষ্টিক কাজে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হয়। তবেই জনসম্পৃক্ততা সৃষ্টি হতে পারে। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব হতে পারে। কী ধরনের খাবার, কেমন জীবনযাপন ডায়াবেটিস আক্রান্তের ঝুঁকি তৈরি করে সে ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার চালাতে হবে। সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ক্যাম্পেইনের মাধ্যমেও সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা সৃষ্টি করা জরুরি।
তাই, ডায়াবেটিস যে প্রতিরোধ করা যায় এই জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্যই সরকারকে দায় নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। জনসাধারণ, মেডিক্যাল অফিসার ও সরকারের যৌথ আয়োজনে বহুমুখী উদ্যোগ গৃহীত হবে বলেই আমরা আশা রাখি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..