প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডিআইইউ’র সোমালিয়ান শিক্ষার্থীর প্রয়াণে দোয়া-মাহফিল

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (পুরকৌশল) বিভাগের সোমালিয়ান শিক্ষার্থী ‘আবদিনাসির মোহাম্মদ হাসান’র মৃত্যুতে ‘ডিআইইউ সিভিল ক্লাবে’র উদ্যোগে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহষ্পতিবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় অনলাইনের জুম প্ল্যাটফর্মে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইনে আয়োজিত এ মহতি দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ৬০ জন সোমালিয়ান শিক্ষার্থীসহ শতাধিক ডিআইইউ শিক্ষার্থী। এছাড়াও যুক্ত ছিলেন ডিআইইউর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. গণেশ চন্দ্র সাহা, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. শাহ-আলম চৌধুরী, ড. সিরাজুল ইসলাম প্রধান এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান।

‘আবদিনাসির মোহাম্মদ হাসান’ গত সোমবার (২ আগস্ট) ধানমন্ডির পপুলার মেডিক্যাল হাসপাতালে ‘টিউবারকুলারকিউলোসিস’ রোগে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে অসুস্থ অবস্থায় তার সহপাঠীরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে বলে জানা যায়। দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে মাহফুজুর রহমান বলেন, আবদিনাসিরের বাবা-মার নির্দেশে রায়ের বাজার কবর স্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।

মো. মাহফুজুর রাহমান তার প্রিয় ছাত্র আবদিনাসিরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আবদিনাসির অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো। ডিআইইউতে অধ্যয়নকালে প্রতিটি সেমিস্টারে সে অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে তার সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখছে। সে শুধু শিক্ষার্থী হিসেবেই নয় মানুষ হিসেবেও বিনয়ী ও প্রাণবন্ত ছিলো। বিভিন্ন সুন্দর কর্ম দিয়ে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আস্থা অর্জন করে নিয়েছিলো।

তার অকাল মৃত্যুতে আমরা ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সবাই গভীরভাবে শোকাহত। আবদিনাসিরের মৃত্যুতে ডিআইইউ সাংবাদিক সমিতি, ডিআইইউ সিভিল ক্লাব, ডিআইইউ এলিট ইংলিশ, ডিআইইউ ফার্মেসি ক্লাবসহ শোক প্রকাশ করেছে ও তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছে। আবদিনাসিরের বাবা-মাকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হলে লাশ সোমালিয়ায় নেয়ার বিভিন্ন জটিলতার কথা ভেবে বাংলাদেশেই দাফন করতে বলায় আমাদের (ডিআইইউ কতৃপক্ষ)’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।

উল্ল্যেখ্য, আবদিনাসির মোহাম্মদ হাসান ডিআইইউতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (পুরকৌশল বিভাগ)’র নবম ব্যাচের প্রথম বর্ষের অসম্ভব একজন মেধাবী, বিনয়ী ও প্রাণবন্ত শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারিতে আফ্রিকা মহাদেশের সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় টিউবারকিউলোসিস (যক্ষা) রোগে রাজধানীর ‘পপুলার মেডিক্যাল হাসপাতালে’ ২২-বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। বিজ্ঞপ্তি