কোম্পানি সংবাদ

ডিএসইএক্স সূচক ফের পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে পতন দ্রুতগতিতে চলছে। আগের দিন থেকে কিছুটা কমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ৬৭ পয়েন্ট পতন হয় সূচকের। দর কমেছে ৭৮ শতাংশ কোম্পানির। বেড়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ কোম্পানির দর। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আড়াই বছর আগের অবস্থানে চলে গেছে। এর আগে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ডিএসইএক্স সূচকের অবস্থান ছিল চার হাজার ৯৫৬ পয়েন্টে। লেনদেনের শুরুতে সূচক খুব সামান্য সময় ইতিবাচক হলেও পরমুহূর্তে বিক্রির চাপ বাড়লে সূচকে পতন নেমে আসে। বেলা ১২টার দিকে খুব সামান্য উত্থান হলেও এরপর মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থানে থেকে লেনদেন শেষ হয়। বাকি দুই সূচকেরও পতন হয়। অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেনে পতন হয়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৭ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে চার হাজার ৯৬৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১৮ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে এক হাজার ১৩৯ দশমিক ১৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস৩০ সূচক ২৩ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৯ শতাংশ কমে এক হাজার ৭৭৬ দশমিক ১৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন তিন লাখ ৭২ হাজার ৯৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ৬০১ টাকা হয়। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৪৬৪ কোটি ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৮৬৫ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৬৮ কোটি ৬৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৯৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এদিন ১৬ কোটি ৬০ লাখ ২৯ হাজার ৬০৫ শেয়ার এক লাখ ২৬ হাজার ৬৯৫ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫৩ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ২৭৭টির, অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির দর।
গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ফরচুন শুজ। কোম্পানিটির ২০ লাখ ৯৪ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর কমেছে দুই টাকা। স্কয়ার ফার্মার ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর কমেছে সাড়ে পাঁচ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর কমেছে সাড়ে তিন টাকা। ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে ৮০ পয়সা। এর পরের অবস্থানে থাকা সি পার্ল রিসোর্টের আট কোটি ৭৯ লাখ টাকা, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের সাত কোটি ৯৬ লাখ টাকা, মুন্নু সিরামিকের সাত কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে ছয় কোটি টাকা, গ্রামীণফোনের ছয় কোটি ৩৯ লাখ টাকা, বিএটিবিসির ছয় কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে আলহাজ্জ টেক্সটাইলের। এসইএমএলএফবিএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, এসইএমএলআইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ডের ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দর ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের আট দশমিক ৩৩ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের পাঁচ দশমিক ১০ শতাংশ, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের চার দশমিক ৯৭ শতাংশ ও মুন্নু সিরামিকের চার দশমিক ৯৬ শতাংশ, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে চার দশমিক ৮৯ শতাংশ।
অন্যদিকে ১০ শতাংশ কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে এমারাল্ড অয়েল। মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের দর ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া সিএনএ টেক্সের ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, জুট স্পিনার্সের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, ইমাম বাটনের ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ, সাভার রিফ্র্যাক্টরিজের ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজের আট দশমিক ৭৩ শতাংশ, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের আট দশমিক ৫৭ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমারের আট দশমিক ৪৯ শতাংশ, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের দর আট দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে।
সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ১১৫ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ৯ হাজার ২৫৭ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০০ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ২১৫ দশমিক ২৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৮৬ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৮টির, কমেছে ২১৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টির দর।
সিএসইতে এদিন ২১ কোটি ১৭ লাখ ৩৬ হাজার ৯০৩ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৭ কোটি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৩২৫ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে চার কোটি সাত লাখ টাকা। সিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে বিএসআরএম স্টিল। কোম্পানিটির চার কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর সি পার্ল রিসোর্টের এক কোটি ৬৬ লাখ টাকার, ডরিন পাওয়ারের এক কোটি ৪৬ লাখ টাকার, বেক্সিমকোর এক কোটি ২৯ লাখ টাকার, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টাকার, রানার অটোমোবাইলসের ৪৬ লাখ টাকার, গ্রামীণফোনের ৩৯ লাখ টাকার, বিবিএস কেব্লসের ২৯ লাখ টাকার, ন্যাশনাল পলিমারের ২৬ লাখ টাকার ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সাড়ে ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..