দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ডিএসইতে টানা এক মাস হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন

পুঁজিবাজার নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছে

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার, যার জের ধরে বাড়ছে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর। পাশাপাশি বাজার মূলধন ও সূচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। বাড়ছে লেনদেনও। নিয়মিত লেনদেন ছাড়িয়েছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। এক মাস ধরে ডিএসইতে নিয়মিত এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতে দেখা যাচ্ছে। ২০১০ সালের পর এমনটি আর দেখা যায়নি।

এদিকে বাজার ভালো থাকায় প্রত্যাশা বাড়ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। তারা আশা করছে এই ধারাবাহিকতা দীর্ঘমেয়াদিভাবে স্থায়ী হবে। তথ্যমতে, গত ২৩ ডিসেম্বর ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের এক হাজার ২৪৪ কোটি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রতিদিনই ডিএসইতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতে দেখা যায়। এর মধ্যে পাঁচ কার্যদিবস দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। ৫ জানুয়ারি সর্বোচ্চ লেনদেন দেখা যায় দুই হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে। সবশেষে গতকাল লেনদেন হয় এক হাজার ২১৩ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

এদিকে বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকায় সম্প্রতি ডিএসইর বাজার মূলধন পাঁচ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ১৪ জানুয়ারি ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের বাজার মূলধন দাঁড়ায় পাঁচ লাখ এক হাজার কোটি টাকা। পরে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটাসহ কিছু শীর্ষ বাজার মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়। ফলে বাজার মূলধন পাঁচ লাখ কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। এক মাস আগে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে গত এক মাসের ব্যবধানে ডিএসইতে উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে সূচক। এক মাস আগে সূচকের অবস্থান ছিল পাঁচ হাজার ১৩৩, গতকাল যা স্থির হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৩৬। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সূচক কমেছে ৭০৩ পয়েন্ট। একইভাবে এই সময়ের মধ্যে প্রায় সব খাতেই বিনিয়োগ বাড়তে দেখা যায়।

যদিও ধারাবাহিকভাবে বাজার ভালো থাকলেও এই সময়ের মধ্যে কিছু শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। বাজারচিত্রে দেখা যায়, এই সময়ে বিমা খাতের কিছু কোম্পানিসহ আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, রবি আজিয়াটা, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, বিডি ফাইন্যান্সসহ আরও কিছু কোম্পানি, যা বাজারের জন্য শুভ সংকেত নয় বলে মনে করেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে একটি ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজারে সব সময় কোনো না কোনো কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা ঘটে। বাজারে ২০১০ সালেও এমন চিত্র দেখা গেছে। পরে ধীরে ধীরে ঝুঁকির দিকে চলে গেছে বাজার। তাই কোনো কোম্পানির শেয়ারদর টানা বাড়লে বা কমলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সেদিকে নজর দেয়া দরকার। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিরাপদে থাকবেন।

এদিকে বাজারে আবারও ১৯৯৬ কিংবা ২০১০ সালের অবস্থা ফিরে আসার শঙ্কা নেই বলে মনে করছেন বিএসইসি ও ডিএসই কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘১৯৯৬ ও ২০১০ সাল পর্যন্ত আমাদের লিগ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অত্যন্ত দুর্বল ছিল। আমাদের আইনকানুনের যথেষ্ট অভাব ছিল। ২০১০ সালের পর আমাদের লিগ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে। এখন আমরা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করতে পারি, যে ঘটনাগুলো ১৯৯৬ ও ২০০৯-১০ সালে হয়েছে, তেমন ঘটনা সামনের দিনে আর ঘটবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যার ফলে পুঁজিবাজারে সুবাতাস বইছে। আমাদের আইটি বিভাগে অনেক দুর্বলতা আছে। কিন্তু এর পরও ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে মনে করি। কারণ এখন সার্ভিলেন্স অনেক শক্তিশালী।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..