কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

ডিএসইতে দর ও লেনদেন বাড়লেও সূচক নেতিবাচক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বেশিরভাগ শেয়ারদর ও লেনদেন বাড়লেও তিনটি সূচকই নেতিবাচক অবস্থানে ছিল। গতকাল ৫০ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে দরপতন হয় ৩৫ শতাংশের। প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের ২৯ পয়েন্ট পতন হয়। বাকি দুই সূচকও পতনে ছিল। লেনদেনের শুরুতেই সূচক নিম্নমুখী হলেও বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কেনার চাপ দ্রুত বেড়ে যায়। তবে সাড়ে ১১টার পর থেকে সূচক ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সূচক নেতিবাচক অবস্থানে থেকে যায়। চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক শেয়ার ও লেনদেনে ছিল নিম্নমুখী গতি।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৯ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে চার হাজার ৬২১ দশমিক ১৯ পয়েন্টে অবস্থান করে।

ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক তিন দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৬৯ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ২০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৮ শতাংশ কমে এক হাজার ৫৫০ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন দুই হাজার ২৩৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কোটি ১৪ লাখ ২৪ হাজার টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হয় ৬২৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৬০০ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। এদিন ২১ কোটি ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫০টি শেয়ার এক লাখ ৫৪ হাজার ৯৬৯ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫৫ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৯টির, কমেছে ১২৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির দর।

গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ব্র্যাক ব্যাংক। দরপতন হয় চার টাকা ১০ পয়সা। এরপরে ভিএফএস থ্রেডের ১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ১০ পয়সা। এরপর ইন্দোবাংলা ফার্মার ১৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ৩০ পয়সা। গ্রামীণফোনের ১৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে তিন টাকা। ওরিয়ন ইনফিউশনের ১৭ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর কমেছে ৩০ পয়সা। ফরচুন শুজের ১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ৪০ পয়সা। এছাড়া সায়হাম কটনের ১৬ কোটি টাকা, সামিট পাওয়ারের ১৪ কোটি টাকা, স্কয়ার ফার্মার ১৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মার ১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। সেন্ট্রাল ফার্মার দর ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালের দর ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের দর আট দশমিক ৯৮ শতাংশ, অলিম্পিক এক্সেসরিজের দর আট দশমিক ৯৫ শতাংশ, নর্দার্ণ জুটের দর আট দশমিক ৫২ শতাংশ, ফু ওয়াং ফুডের দর সাত দশমিক ৫১ শতাংশ, সমতা লেদারের দর সাত দশমিক শূন্য আট শতাংশ, ফরচুন শুজের দর ছয় দশমিক ৯৪ শতাংশ, ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের দর পাঁচ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়েছে।

সাত দশমিক ৭২ শতাংশ কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে ব্র্যাক ব্যাংক। ফ্যামিলি টেক্সের দর পাঁচ শতাংশ কমেছে। সায়হাম টেক্সটাইলের দর চার দশমিক ৭৬ শতাংশ, সামিট পাওয়ারের দর চার দশমিক ৬৯ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের দর চার দশমিক ২২ শতাংশ, রহিম টেক্সটাইলের দর তিন দশমিক ৯৯ শতাংশ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের দর তিন দশমিক ৯৪ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার দর তিন দশমিক ৮২ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সটের দর তিন দশমিক ৭০ শতাংশ, সিটি ব্যাংকের দর তিন দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৭২ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে আট হাজার ৫৮৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১৫ দশমিক শূন্য ছয় পয়েন্ট বা দশমিক ৮০ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ১৪৮ দশমিক ৯২ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৫৩ কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১৯টির, কমেছে ১০০টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির দর।

সিএসইতে এদিন ২১ কোটি ৮৪ লাখ ১০ হাজার ২৩৬ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৫ কোটি ৯৮ লাখ ৪৬ হাজার ৩১৩ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে চার কোটি ১৪ লাখ টাকা।

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। কোম্পানিটির এক কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপরের অবস্থানগুলোতে থাকা কনফিডেন্স সিমেন্টের এক কোটি ৪২ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংকের ৭৯ লাখ, ফরচুন শুজের ৭৪ লাখ, আরডি ফুডের ৭৪ লাখ, প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের ৭০ লাখ, ইন্দোবাংলা ফার্মার ৬০ লাখ, এসএস স্টিলের ৫৭ লাখ, এডিএন টেলিকমের ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..