কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

ডিএসইতে দৈনিক ও গড় লেনদেন কমেছে ৩১.৮৯ শতাংশ

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক  : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেনে বড় পতন হয়েছে। সব কয়টি সূচক পতনের পাশাপাশি মোট লেনদেন কমেছে ৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেনও একই হারে কমেছে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। আগের সপ্তাহেও পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। এর মধ্যে সূচক দুই দিন ইতিবাচক ছিল। কমেছে তিন দিন। সূচক পতনের হার অনেক বেশি ছিল। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। বাজার মূলধন কমেছে দুই দশমিক ৪৬ শতাংশ। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেনে একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা তিন দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে চার হাজার ৫১৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৩৯ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা তিন দশমিক ৭২ শতাংশ কমে এক হাজার ১৬ দশমিক ৬০ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস৩০ সূচক ৫৭ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা তিন দশমিক ৫৯ শতাংশ কমে এক হাজার ৫৪৮ দশমিক ১২ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৪টির, কমেছে ২৭৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৫ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭৫ হাজার ৯১৪ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৬২ কোটি ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ৩২৫ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

গেল সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৫৭৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭০৪ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ৩১০ কোটি ৯৮ লাখ ৭১ হাজার ৬২৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে ৭৩৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বা ৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ কোটি ৬২ লাখ ২৩ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭ কোটি ৫৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে দুই দশমিক ৪৬ শতাংশ বা আট হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে আনলিমা ইয়ার্ন ডায়িং। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা কে অ্যান্ড কিউ’র দর ১২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দর ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দর ১১ দশমিক শূন্য এক শতাংশ বেড়েছে। স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের দর ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ, ইফাদ অটোসের দর ১০ দশমিক ২০ শতাংশ, খুলনা পাওয়ারের দর ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, রেকিট বেনকিজারের দর ৯ দশমিক শূন্য আট শতাংশ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর আট দশমিক ৭৩ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের দর আট দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে ম্যাকসন্স স্পিনিং। রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের দর ১৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, সায়হাম টেক্সটাইল মিলসের দর ১৫ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ, আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলসের দর ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ, স্টাইলক্রাফটের দর ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ, এসিআই লিমিটেডের দর ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের দর ১২ দশমিক শূন্য চার শতাংশ, তুংহাই নিটিংয়ের দর ১২ শতাংশ কমেছে।

সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৪ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৪১৭ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১২০ কোটি দুই লাখ ৮২ হাজার টাকা। লেনদেন কমেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

৫০ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে রিং শাইন টেক্সটাইল। প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের দর ২১ দশমিক ২৭ শতাংশ, সমতা লেদারের দর ১৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দর ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। এরপরের অবস্থানগুলোতে থাকা ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের দর ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আনলিমা ইয়ার্নের দর ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউ’র দর ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের দর ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ, রেকিট বেনকিজারের দর ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, প্রগ্রেসিভ লাইফের দর ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..