কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

ডিএসইতে দৈনিক ও গড় লেনদেন কমেছে ২.৭৪%

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেনে পতন হয়েছে। সবকয়টি সূচক পতনের পাশাপাশি মোট লেনদেন কমেছে দুই দশমিক ৭৪ শতাংশ। সেইসঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে একই হারে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। আগের সপ্তাহেও পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। এর মধ্যে সূচক দুই দিন ইতিবাচক ছিল। কমেছে তিন দিন। সূচক পতনের হার অনেক বেশি ছিল। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ২১ শতাংশ।  চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেনে একই চিত্র লক্ষ করা যায়।                           

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬০ দশমিক ১০ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২৭ শতাংশ কমে চার হাজার ৬৭১ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ২৬ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৫৫ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস ৩০ সূচক ৪১ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে এক হাজার ৬০৫ দশমিক ৮২ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪০টির, কমেছে ১৯৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৬২ কোটি ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ৩২৫ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৭৫ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার ৭৬ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৩ কোটি এক লাখ টাকা বা দুই দশমিক ৭৪ শতাংশ।

গেলো সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৩১০ কোটি ৯৮ লাখ ৭১ হাজার ৬২৫ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ৩৭৬ কোটি ছয় লাখ ৫০ হাজার ৩৮১ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে ৬৫ কোটি সাত লাখ টাকা বা দুই দশমিক ৭৪ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ কোটি ৮১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ কোটি ৬২ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ২১ শতাংশ বা চার হাজার ৩২৯ কোটি টাকা।   

গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ৩৮ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা জাহিন স্পিনিং লিমিটেডের দর ২৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দর ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়েছে। ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের দর ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ইভিন্স টেক্সটাইলের দর ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের দর ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের দর ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের দর ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের দর ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। 

অন্যদিকে ৫৬ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে স্টাইল ক্রাফটের দর। এসিআই লিমিটেডের দর ১৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, কুইন সাউথের দর ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ, বঙ্গজ লিমিটেডের দর ১৬ দশমিক ০২ শতাংশ, অ্যাকটিভ ফাইনের দর ১৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, সালভো কেমিক্যালের দর ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের দর ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, কপারটেকের দর ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ ও ওরিয়ন ফার্মার দর ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ কমেছে।

ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ দশ কোম্পানি হলোÑলাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ফরচুন সুজ, এসকে ট্রিমস, ইউনাইটেড ফাইন্যন্স, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।

অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩০৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৮টির, কমেছে ১৫৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির দর।

সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে এক দশমিক ৩৮ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক এক দশমিক ৩১ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক কমেছে এক দশমিক ৪৭ শতাংশ, সিএসআই সূচক দুই দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং সিএসই৩০ সূচক কমেছে দুই দশমিক ১২ শতাংশ।      

সিএসইতে গত সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২০ কোটি দুই লাখ ৮২ হাজার ৯৯৮ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৭০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। লেনদেন বেড়েছে ১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা।     

৩৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স। জাহিন স্পিনিংয়ের দর ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, সমতা লেদারের দর ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের দর ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের দর ১৫ দশমিক ১৭ শতাংশ, বেক্সিমকো সিনথেটিকসের দর ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৪ দশমিক ০৮ শতাংশ, ইভিন্স টেক্সটাইলের দর ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং তুংহাই নিটিংয়ের দর ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে অ্যাডভান্স কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ। এর পরের অবস্থানগুলোতে ছিল ফিনিক্স ফাইন্যান্স, বঙ্গজ, ইমাম বাটন, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, অ্যাকটিভ ফাইন, ওরিয়ন ফার্মা, শমরিতা হসপিটাল, ফ্যামিলি টেক্স ও প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স।               

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, বিএসআরএম স্টিল, যমুনা অয়েল, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো লিমিটেড, ডরিন পাওয়ার, আরএকে সিরামিকস, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট ও ফরচুন শুজ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..