কোম্পানি সংবাদ

ডিএসইতে দৈনিক ও গড় লেনদেন কমেছে ১২.০৪ শতাংশ

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সবগুলো সূচক পতনের পাশাপাশি মোট লেনদেন ও দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে। সে সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধন। মোট লেনদেন ও দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১২ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। গত সপ্তাহে লেনদেন হয় পাঁচ কার্যদিবস। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল পাঁচ কার্যদিবস। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিন সূচকের পতন হয়। বেড়েছে মাত্র একদিন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেন কমেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮২ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৬২ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ১৩ দশমিক শূন্য দুই পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১৬ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে এক হাজার ১৬৭ দশমিক শূন্য সাত পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস ৩০ সূচক ৪১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৭৫৮ দশমিক ৮২ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৪টির, কমেছে ২৩৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি ২টির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৯৪ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৫১১ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬৭ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৫৪ কোটি শূন্য চার লাখ টাকা বা ১২ দশমিক শূন্য চার শতাংশ।
গেল সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৯৭৩ কোটি ৩১ লাখ সাত হাজার ৫৫৪ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ২৪৩ কোটি ৫৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৩৩ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে ২৭০ কোটি ২২ লাখ টাকা বা ১২ দশমিক শূন্য চার শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৮০ হাজার ৮৪৫ কোটি ৭২ লাখ এক হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৭৪ হাজার ৫৪২ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ৬৬ শতাংশ বা ছয় হাজার ৩০৩ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে বি ক্যাটেগরির কে অ্যান্ড কিউ লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ২২ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা মুন্নু জুট স্টাফলার্সের দর ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, স্টাইল ক্রাফটের দর ১৫ দশমিক ৯২ শতাংশ, জেমিনি সী ফুডের দর ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ডের দর ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ, দেশবন্ধু পলিমারের দর ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ, দেশ গার্মেন্টের দর ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সোনালী আঁশের দর ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের দর আট দশমিক ১১ শতাংশ ও ফার্মা এইডের দর সাত দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১৫ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ, তাল্লু স্পিনিং মিলসের দর ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ, আলহাজ্ব টেক্সটাইলের দর ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩০৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ২১৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দুই দশমিক শূন্য দুই শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক দুই দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক কমেছে দুই দশমিক ৩২ শতাংশ, সিএসআই সূচক এক দশমিক ৯৩ শতাংশ ও সিএসই৩০ সূচক দুই দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছে।
সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৫ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ৮৮০ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২০৯ কোটি ৮১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।
১০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে জেড ক্যাটেগরির এমারাল্ড অয়েল। বীচ হ্যাচারির দর ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউ’র দর ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ, দেশবন্ধু পলিমারের দর ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..