কোম্পানি সংবাদ

ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৭.৯৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে মোট লেনদেন কমেছে ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। সে সঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে সাত দশমিক ৯৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। গত সপ্তাহে লেনদেন হয় চার কার্যদিবস। সবগুলো সূচক নেতিবাচক হওয়ার পাশাপাশি বাজার মূলধন কমেছে দশমিক ৬২ শতাংশ। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে দুদিন সূচকের উত্থান হয়, দুদিন পতন হয়। তবে উত্থানের চেয়ে পতনের হার বেশি ছিল। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক, বেশিরভাগ শেয়ারদর ও লেনদেন কমেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স চার দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ৩২১ দশমিক ৪১ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক পাঁচ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে এক হাজার ২২৭ দশমিক ৬২ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস৩০ সূচক পাঁচ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ২৮ শতাংশ কমে এক হাজার ৮৯৭ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৬টির, কমেছে ১৪৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি পাঁচটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩০৮ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ১১৮ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৮৫ হাজার ১৫১ টাকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা সাত দশমিক ৯৩ শতাংশ।
গেল সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ২৩২ কোটি ৬২ লাখ চার হাজার ৪৭১ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল এক হাজার ৬৭৩ কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে ৪৪০ কোটি ৮৭ লাখ ২১ হাজার টাকা বা ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৯৭ হাজার ৬২১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৯৫ হাজার ১৬৩ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে দশমিক ৬২ শতাংশ বা দুই হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ৩৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোয় থাকা ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের দর ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। হাক্কানী পাল্প অ্যান্ড পেপারের দর ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং অ্যাকটিভ ফাইনের দর ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ফাইন ফুডসের ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, এইচআর টেক্সটাইলের ৯ দশমিক ২১ শতাংশ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৯ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের আট দশমিক ৫৮ শতাংশ ও তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের দর সাত দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ২৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে রেকিট বেনকিজার। মুন্নু সিরামিকের দর ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, জিএসপি ফাইন্যান্সের ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ, মুন্নু জুট স্টাফলার্সের ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ইসলামিক ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্টের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংকের ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, হাইডেলবার্গ সিমেন্টের সাত দশমিক ৮৩ শতাংশ, লিগ্যাসি ফুটওয়ারের সাত দশমিক ৭০ শতাংশ, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের সাত দশমিক ৪১ শতাংশ ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দর সাত দশমিক ১৪ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো: ফরচুন শুজ, শুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি, ইউনাইটেড পাওয়ার, এ্যাস্কোয়ার নিট, স্কয়ার ফার্মা, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, গ্রামীণফোন, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ও ব্র্যাক ব্যাংক।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৮৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ১২৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দশমিক ৩১ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক কমেছে দশমিক ২৬ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক বেড়েছে দশমিক শূন্য দুই শতাংশ এবং সিএসআই সূচক দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছে। সিএসই৩০ সূচক কমেছে দশমিক ২৭ শতাংশ।
সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫২ কোটি ১০ লাখ ২৬ হাজার ৭৪৫ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১৫৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। লেনদেন কমেছে ১০১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
৪১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ইমাম বাটন। স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের দর ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে। হাক্কানী পাল্পের ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৬ শতাংশ বেড়েছে। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স, জনতা ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ইভিন্স টেক্সটাইল ও গোল্ডেনসন লিমিটেড।
অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে রেকিট বেনকিজার। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল মুন্নু সিরামিক, ইসলামিক ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, এপেক্স স্পিনিং, ব্র্যাক ব্যাংক, পপুলার লাইফ, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ও ইসলামিক ইন্স্যুরেন্স।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো: ডরিন পাওয়ার, এ্যাস্কোয়ার নিট, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, বিএসআরএম, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, বিএসসিসিএল, বেক্সিমকো লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা ও তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স।

সর্বশেষ..