কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৯.৯৫%

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সবগুলো সূচক পতনের পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর কারণ গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় চার কার্যদিবস। যে কারনে মোট লেনদেন বেড়েছে। বাজার মূলধন কমেছে দশমিক ১২ শতাংশ। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রথম দুদিন সূচক সামান্য বাড়লেও শেষ তিন দিন কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৭ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে চার হাজার ৮৫৫ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ৩৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৯০ শতাংশ কমে এক হাজার ১২৩ দশমিক ২১ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস ৩০ সূচক এক হাজার ৭৩৭ দশমিক শূন্য ছয় পয়েন্ট বা ১০০ শতাংশ কমে এক হাজার ৭৩৭ দশমিক শূন্য ছয় পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৩টির, কমেছে ২৩৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৭৯ কোটি ৫৯ লাখ চার হাজার ৩৪৭ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪২১ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৯ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৪১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
গেলো সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৮৯৭ কোটি ৯৫ লাখ ২১ হাজার ৭৩৩ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল এক হাজার ৬৮৬ কোটি ১৮ লাখ দুই হাজার ৩৯৬ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ২১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বা ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি ছয় লাখ ৭২ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৬৮ হাজার ৯৬৭ কোটি ৬১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে দশমিক ১২ শতাংশ বা ৪৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে বিমা খাতের প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ৩২ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৮ শতাংশ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দর ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়েছে। জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর ১৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের দর ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের দর ১২ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ৩০ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ। আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলসের দর ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ, জেএমআই সিরিঞ্জের দর ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, মুন্নু জুট স্টাফলার্সের দর ১৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, সায়হাম কটনের দর ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউ’র দর ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ, জেমিনি সি ফুডের দর ১৬ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ, স্টাইল ক্রাফটের দর ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ওয়াটা কেমিক্যালের দর ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ, সায়হাম টেক্সটাইলের দর ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ন্যাশনাল টিউবস, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, জেএমআই সিরিঞ্জ, স্কয়ার ফার্মা, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, স্টাইল ক্রাফট লিমিটেড, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, ফরচুন শুজ, মুন্নু সিরামিক ও ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩০৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯টির, কমেছে ২০৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে এক দশমিক ৪৮ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক এক দশমিক ৪৭ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক কমেছে দশমিক ৭৭ শতাংশ, সিএসআই সূচক দুই দশমিক ৪৮ শতাংশ ও সিএসই৩০ সূচক দুই দশমিক ৮৪ শতাংশ কমেছে। সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫৮ কোটি ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৮০ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি ১১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। এরপরের অবস্থানগুলোতে থাকা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দর ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ, নর্দার্ন জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ, কন্টিনেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ, ইমাম বাটনের দর ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষ দশে উঠে আসে মুন্নু সিরামিক। এরপরে অবস্থান করে জেএমআই সিরিঞ্জ, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, বঙ্গজ লিমিটেড, সায়হাম কটন, কে অ্যান্ড কিউ, ফরচুন শুজ, বীকন ফার্মা, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, লিন্ডে বাংলাদেশ, ডরিন পাওয়ার, বার্জার পেইন্টস, ম্যারিকো বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মা, বিএসআরএম স্টিল লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক ও ডাচ্ বাংলা ব্যাংক।

সর্বশেষ..