প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে দশমিক ৬৭%

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সবকটি সূচক কমেছে। দৈনিক গড় লেনদেন ও টার্নওভার কমেছে দশমিক ৬৭ শতাংশ। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। তবে বাজার মূলধন  বেড়েছে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। সূচক তিন দিন বাড়লেও দুদিন বড় ধরনের পতন হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবগুলো সূচক পতনের পাশাপাশি বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে। তবে মোট লেনদেন বেড়েছে।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ২১ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ছয় হাজার ১৮ দশমিক ২৬ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১২ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৭ শতাংশ কমে এক হাজার ৩১৬ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএসই ৩০ সূচক ১৪ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে দুই হাজার ১৭৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৩৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১৩টির, কমেছে ২০৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৬ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি একটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৫৬৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৫ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক লেনদেন হয় ৫৭৩ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার ৫১৮ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে তিন কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা দশমিক ৬৭ শতাংশ।

অন্যদিকে সিএসইতে ২৭৫টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৫টির, কমেছে ১৬৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির।

গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৪৮ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৭৩ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ৮৬৮ কোটি তিন লাখ ১২ হাজার ৫৮৮ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে ১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল চার লাখ সাত হাজার ৫৯৩ কোটি ৭৭ লাখ ছয় হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল চার লাখ ১০ হাজার ৯৪ কোটি ৭১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৯ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক ৬১ শতাংশ বা দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এক সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দশমিক ৭১ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক কমে দশমিক ৭৭ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক  দশমিক দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক কমেছে দশমিক ৯১ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক কমেছে এক দশমিক ১৭ শতাংশ।

সিএসইতে গেলো সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০৪ কোটি ৯২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫৯ টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে ১০৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে টার্নওভার ছিল ২০০ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার ৫৬২ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে জেমিনি সি ফুড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৬২ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল সাফকো স্পিনিং, মুন্নু জুট স্টাফলার, রংপুর ফাউন্ড্রি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, মুন্নু সিরামিক, স্টাইল ক্রাফট, ওয়াটা কেমিক্যাল, এপেক্স ফুড, রংপুর ডেইরি।

অন্যদিকে ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ দর কমে জিলবাংলা সুগার মিল টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে চলে আসে। এর পরের অবস্থানে ছিল শাইনপুকুর সিরামিক, শ্যামপুর সুগার মিল, কে এন্ড কিউ, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, এসিআই ফরমুলা, লিবরা ইনফিউশন, আরামিট সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং।

ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলোÑলংকাবাংলা ফিন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, বিবিএস কেবল্স্, ইফাদ অটোস, গ্রামীণফোন, আমরা নেটওয়ার্ক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, রংপুর ফাউন্ড্রি, এক্সিম ব্যাংক, উত্তরা ব্র্যাংক।

সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসা কোম্পানির মধ্যে রয়েছেÑসাফকো স্পিনিং, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, রেকিট বেনকিজার, মুন্নু সিরামিক, ওয়াটা কেমিক্যাল, রংপুর ফাউন্ড্রি, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইফাদ অটোস, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।