কোম্পানি সংবাদ

ডিএসইতে লেনদেন কমলেও সূচক ইতিবাচক

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সব সূচক ইতিবাচক থাকলেও মোট লেনদেন ও দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে। মোট লেনদেন কমেছে দুই দশমিক ৭৯ শতাংশ। দৈনিক গড় লেনদেনও একই হারে কমেছে। বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত সপ্তাহে লেনদেন হয় পাঁচ কার্যদিবস। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল পাঁচ কার্যদিবস। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিন সূচক বেড়েছে ও এক দিন কমেছে। গত সপ্তাহে ছোট মূলধনি কোম্পানির অধিক দরবৃদ্ধির কারণে সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি সূচক ও শেয়ারদর ইতিবাচক থাকার পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ২৩৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ২০৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস ৩০ সূচক ১২ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮৫০ দশমিক ০১ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২১২টির, কমেছে ১৩০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৩ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৬০ কোটি ৬৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪৫৮ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৭৩ কোটি ৯১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪১ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৩ কোটি ২২ লাখ টাকা বা দুই দশমিক ৭৯ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৩০৩ কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৯ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ৩৬৯ কোটি ৫৯ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৩ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে ৬৬ কোটি ১৩ লাখ ৯ হাজার টাকা বা দুই দশমিক ৭৯ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৮৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৮৮ হাজার ৪৪০ কোটি ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক ৪৭ শতাংশ বা এক হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে বি ক্যাটেগরির ফ্যামিলি টেক্সটাইল। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ৩০ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা জেনারেশন নেক্সটের দর ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, অ্যাপোলো ইস্পাতের দর ২৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের দর ২০ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে। এসএস স্টিলের দর ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ডের দর ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, সায়হাম টেক্সটাইলের দর ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ ও আরএন স্পিনিংয়ের দর ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে আট দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স। এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর আট দশমিক ৮৭ শতাংশ, ভিএফএস থ্রেডের দর আট দশমিক ৮৬ শতাংশ, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের দর সাত দশমিক ৬৯ শতাংশ, অ্যাপেক্স ট্যানারির দর সাত দশমিক ৩৯ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ডের দর সাত দশমিক ২৫ শতাংশ, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের দর সাত দশমিক ১১ শতাংশ, বিচ হ্যাচারির দর সাত দশমিক ০৫ শতাংশ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের দর ছয় দশমিক ৯৯ শতাংশ ও আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ছয় দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ দশ কোম্পানি হলোÑইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, খুলনা পাওয়ার, জেএমআই সিরিঞ্জ, ওরিয়ন ইনফিউশন, ফরচুন সুজ, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বীকন ফার্মা, সিলকো ফার্মা ও কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩০৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯২টির, কমেছে ১০৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক বেড়েছে দশমিক ৯০ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক বেড়েছে দশমিক ৩১ শতাংশ, সিএসআই সূচক বেড়েছে এক দশমিক ২৮ শতাংশ ও সিএসই৩০ সূচক দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে।
সিএসইতে গত সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪৪ কোটি ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৮ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০৮ কোটি ৮১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। লেনদেন বেড়েছে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
৪০ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে জেড ক্যাটেগরির কেয়া কসমেটিকস। বিডি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্সের দর ৩০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, তাল্লু স্পিনিং ও ফ্যামিলি টেক্সটাইলের দর ৩০ শতাংশ ও অ্যাপোলো ইস্পাতের দর ২৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে। এরপরের অবস্থানগুলোতে থাকা ডেল্টা স্পিনার্সের দর ২৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, দি ঢাকা ডায়িংয়ের দর ২৫ দশমকি ৭১ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সটের দর ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ, সায়হাম টেক্সটাইলের দর ২৪ দশমিক ০৬ শতাংশ ও সিএন্ডএ টেক্সটাইলের দর ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষ দশে উঠে আসে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, ইমাম বাটন, খুলনা প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো সিঙ্গার বিডি, ওরিয়ন ইনফিউশন, ডরিন পাওয়ার, বীকন ফার্মা, বিডি শিপিং করপোরেশন, বেক্সিমকো লিমিটেড, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, খুলনা পাওয়ার, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও এসএস স্টিল লিমিটেড।

সর্বশেষ..