আজকের পত্রিকা

ডিএসইতে লেনদেন বাড়লেও পতন হয় সূচকের

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ও মোট লেনদেন বাড়লেও সবগুলো সূচকের পতন হয়। সেই সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধন। দৈনিক ও গড় লেনদেন বেড়েছে দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ হারে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। আগের সপ্তাহেও পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। এর মধ্যে তিন দিন সূচকের উত্থান হয়। দুদিন পতন হয়। উত্থানের তুলনায় পতনের হার অনেক বেশি। বাজার মূলধন কমেছে দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও শেয়ারদর ও লেনদেনে একই চিত্র দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৬২ শতাংশ কমে চার হাজার ৯৩৭ দশমিক ৮২ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১২ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বা এক দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ কমে এক হাজার ১৩৬ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস ৩০ সূচক দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ১৩ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে এক হাজার ৭৫৫ দশমিক ২৪ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৭টির, কমেছে ১৯৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৯১ কোটি ৭৭ লাখ ৫৭ হাজার ৯০২ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৯১ কোটি ৫৭ লাখ ৯০ হাজার ২৬১ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বা দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।
গেল সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৯৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮৯ হাজার ৫০৮ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল এক হাজার ৯৫৭ কোটি ৮৯ লাখ ৫১ হাজার ৩০৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ৯৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বা দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৭৬ হাজার ৫৩২ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৭২ হাজার ৭৩৪ কোটি ৫৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক শূন্য এক শতাংশ বা তিন হাজার ৭৯৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড। সপ্তাহজুড়ে ফান্ডটির দর ৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের দর ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, স্টান্ডার্ড সিরামিকের দর ২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের দর ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ডের দর ২০ শতাংশ, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের দর ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ইনটেক লিমিটেডের দর ১৭ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ, অএসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর ১৫ দশমিক ৯২ শতাংশ ও প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে মিথুন নিটিং। ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের দর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, জিকিউ বলপেনের দর আট দশমিক ৫৭ শতাংশ, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের দর আট দশমিক ২৮ শতাংশ, কেডিএস এক্সেসরিজের দর আট দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের দর সাত দশমিক ১৭ শতাংশ, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের দর সাত শতাংশ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের দর ছয় দশমিক ৯৩ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দর ছয় দশমিক ৮৩ শতাংশ ও ব্যাংক এশিয়ার দর ছয় দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ন্যাশনাল টিউবস, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, স্টাইল ক্রাফট, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স ও জেএমআই সিরিঞ্জ।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩০৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক দশমিক ৪০ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক কমেছে দশমিক ৫৪ শতাংশ, সিএসআই সূচক দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে সিএসই ৩০ সূচক দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে।
সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫০ কোটি ৮৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০৯ কোটি শূন্য ৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৪১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
৪৪ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড। স্টান্ডার্ড সিরামিকের দর ২৮ দশমিক ৪১ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ডের দর ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ২১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। এরপরের অবস্থানগুলোতে থাকা সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের দর ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সমতা লেদারের দর ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের দর ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের দর ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষ দশে উঠে আসে মিথুন নিটিং। এরপরে অবস্থান করে মেঘনা সিমেন্ট মিলস, ওরিয়ন ফার্মা, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, জিকিউ বলপেন, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, কেডিএস এক্সেসরিজ ও প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো সিঙ্গার বাংলাদেশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক, ডরিন পাওয়ার, ম্যারিকো বাংলাদেশ. দি সিটি ব্যাংক, নাভানা সিএনজি, স্টান্ডার্ড ব্যাংক, সামিট পাওয়ার।

সর্বশেষ..