কোম্পানি সংবাদ

ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে সাত দশমিক ৬০ শতাংশ

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের ছুটি শুরুর আগের সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইতিবাচক গতিতে লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেন বেড়েছে সাত দশমিক ৬০ শতাংশ। দৈনিক গড় লেনদেনও একই হারে বেড়েছে। বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক ১১ শতাংশ। ডিএসইএক্স ও ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক সামান্য ইতিবাচক থাকলেও কমেছে ডিএসই৩০ সূচক। গত সপ্তাহে লেনদেন হয় পাঁচ কার্যদিবস। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল পাঁচ কার্যদিবস। তবে ঈদের ছুটি শেষে আজ থেকে লেনদেন শুরু হবে। লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবস সূচকের উত্থান হয় একদিন পতন হয়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেনে একই চিত্র দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩১ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ২০১ দশমিক ৪২ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক দশমিক শূন্য তিন পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৯২ দশমিক ২২ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস ৩০ সূচক দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য চার শতাংশ কমে এক হাজার ৮৩৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৫টির, কমেছে ১৪১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৭৩ কোটি ৯১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪১ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৪০ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৮৯১ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৩৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা সাত দশমিক ৬০ শতাংশ।
গেলো সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৩৬৯ কোটি ৫৯ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৩ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ২০২ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ৪৫৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ১৬৭ কোটি ৩৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বা সাত দশমিক ৬০ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৮৬ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৮৬ হাজার ৬২৬ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক ১১ শতাংশ বা ৪৪১ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা আলহাজ্ব টেক্সটাইলের দর ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ, মুন্নু জুট স্টাফলার্সের দর ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, খুলনা পাওয়ার কোম্পানির দর ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে। গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দর ১২ দশমিক ৮৪ শতাংশ, ড্রাগস সোয়েটারের দর ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ, জেএমআই সিরিঞ্জের দর ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের দর আট দশমিক ৭৮ শতাংশ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির দর আট দশমিক ৬২ শতাংশ, সামিট এলায়েন্স পোর্টের দর আট দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ড। এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর ২৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ভিএফএস থ্রেডের দর ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের দর ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের দর ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, এমারাল্ড অয়েলের দর ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ, ফিনিক্স ফাইন্যান্সের দর ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ, কে অ্যান্ড কিউ’র দর আট দশমিক ৪৩ শতাংশ, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড সাত দশমিক ৮৯ শতাংশ ও আজিজ পাইপসের দর সাত দশমিক ৬৯ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, ফরচুন সুজ, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মা, খুলনা পাওয়ার, মুন্নু জুট স্টাফলার্স ও ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩১১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৬টির, কমেছে ১১৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক বেড়েছে দশমিক ৬২ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক বেড়েছে দশমিক ১৯ শতাংশ, সিএসআই সূচক বেড়েছে দশমিক শূন্য সাত শতাংশ ও সিএসই৩০ সূচক দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে।
সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৮ কোটি ৮১ লাখ ১৫ হাজার ৬২৬ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯৫ কোটি ৭৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। লেনদেন বেড়েছে ১৩ কোটি শূন্য ছয় লাখ টাকা।
২৯১ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। বিডি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্সের দর ৫০ শতাংশ, প্রগতি লাইফের দর ২৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এরপরের অবস্থানগুলোতে থাকা প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, জিবিবি পাওয়ারের দর ১৪ শতাংশ, খুলনা পাওয়ার কোম্পানির দর ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের দর ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ঢাকা ডায়িংয়ের দর ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ, বিচ হ্যাচারির দর ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ ও বেক্সিমকো সিনথেটিকসের দর ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ড, ভিএফএস থ্রেড, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আজিজ পাইপস লিমিটেড, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডি ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোড।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ডরিন পাওয়ার, ব্র্যাক ব্যাংক, বিডি শিপিং করপোরেশন, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, ড্রাগন সোয়েটার, ভিএফএস থ্রেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, সি পার্ল রিসোর্ট।

সর্বশেষ..