কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৭১ দশমিক ৫৬ শতাংশ

সপ্তাহের ব্যবধান


নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহজুড়ে ইতিবাচক গতিতে লেনদেন হয়েছে। দীর্ঘদিন পরে ইতিবাচক হয়েছে বাজার। সব সূচকের উত্থানের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বেড়েছে ৭১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সেইসঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেনও একই হারে বেড়েছে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিন সূচক ইতিবাচক ছিল। এক দিন কমেছে। তবে সপ্তাহের প্রথম দিনে ডিএসইএক্স সূচকের রেকর্ড ২৩২ পয়েন্ট উত্থান হয়। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। আগের সপ্তাহেও পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। বাজার মূলধন বেড়েছে আট দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৬৪ দশমিক ০৬ পয়েন্ট বা আট দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৫১৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ৯৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে ১০৩৫ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস৩০ সূচক ১৩৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বা ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৫৪৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৬০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৮টির, কমেছে ২৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল সাত কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৫৩ কোটি ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭৪ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ২৬৪ কোটি ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৪ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৮৯ কোটি টাকা বা ৭১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ২৬৫ কোটি ৭৮ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৯ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল এক হাজার ৩২০ কোটি ৭৩ লাখ সাত হাজার ৯২১ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ৯৪৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা বা ৭১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৭০ কোটি ৮৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৪৫ হাজার ৬৯ কোটি ৪২ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে আট দশমিক ০৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে আর্থিক খাতের ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ৪১ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা সি পার্ল রিসোর্টের দর ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের দর ৩১ দশমিক ১৩ শতাংশ ও জেমিনি সি ফুডের দর ২৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে। হাইডেলবার্গ সিমেন্টের দর ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ডের দর ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, বেক্সিমকো ফার্মার দর ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দর ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ২২ দশমিক ২২ শতাংশ ও বাংলাদেশ ল্যাম্পসের দর ২১ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে এসএস স্টিল। এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের দর ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের দর ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সিলকো ফার্মার দর ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ, তোসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের দর সাত দশমিক ৬৯ শতাংশ, আনলিমা ইয়ার্নের দর পাঁচ দশমিক ৯০ শতাংশ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের দর পাঁচ দশমিক ৩০ শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর চার দশমিক ৫৮ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনার্সের দর চার দশমিক ০৮ শতাংশ ও প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দর তিন দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মা, এসএস স্টিল, খুলনা পাওয়ার, গ্রামীণফোন, বীকন ফার্মা, সিঙ্গার বাংলাদেশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এডিএন টেলিকম এবং এসকে ট্রিমস।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩০৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৬৫টির, কমেছে ২৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ ও সিএসআই সূচক ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়েছে। সিএসই৩০ সূচক বেড়েছে ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ।
সিএসইতে গত সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬৫ কোটি ৫৯ লাখ ছয় হাজার ১৭১ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৫৫ কোটি ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৬ টাকা। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ১১০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
৪৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ। সি পার্ল বিচ রিসোর্টের দর ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের দর ৩১ দশমিক ০৯ শতাংশ ও বেক্সিমকো ফার্মার দর ২৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে। এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর ২৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বাংলাদেশ ল্যাম্পসের দর ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, হাইডেলবার্গ সিমেন্টের দর ২৪ দশমিক ২৪ শতাংশ, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের দর ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ২২ দশমিক ২২ শতাংশ ও ভিএফএস থ্রেডের দর ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে এসএস স্টিল। সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে। এর পরের অবস্থানগুলোতে ছিল স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, এপেক্স ট্যানারি, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, এমারাল্ড অয়েল, সিলকো ফার্মা, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং ও আনলিমা ইয়ার্ন।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ব্যাংক এশিয়া, লাফার্জহোলসিম, রিং শাইন, রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড, এসএস স্টিল, এডিএন টেলিকম, বেক্সিমকো লিমিটেড ও ন্যাশনাল ব্যাংক।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..