কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

ডিএসইতে সূচক কমলেও দৈনিক লেনদেন বেড়েছে ৬.৮১%

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সবগুলো সূচক পতনের পাশাপাশি বাজার মূলধন ও মোট লেনদেন কমেছে। তবে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ছয় দশমিক ৮১ শতাংশ। গত সপ্তাহে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় পাঁচ কার্যদিবস। যে কারণে মোট লেনদেন কমেছে। বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ৩৭ শতাংশ। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। গত সপ্তাহে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়। এর মধ্যে দুদিন সূচক বেড়েছে, দুদিন কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারদর কমলেও লেনদেন বেড়েছে। সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৯ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে চার হাজার ৯৩৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১০ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে এক হাজার ১৫৬ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস ৩০ সূচক ২১ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বা এক দশমিক ২০ শতাংশ কমে এক হাজার ৭৩৭ দশমিক শূন্য ছয় পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৬টির, কমেছে ২৭৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৩ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪২১ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৯ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৯৪ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৫১১ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বা ছয় দশমিক ৮১ শতাংশ।
গেলো সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৬৮৬ কোটি ১৮ লাখ দুই হাজার ৩৯৬ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল এক হাজার ৯৭৩ কোটি ৩১ লাখ সাত হাজার ৫৫৪ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে ২৮৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৭৪ হাজার ৫৪২ কোটি ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি ছয় লাখ ৭২ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ৩৭ শতাংশ বা পাঁচ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে সরকারি কোম্পানি ন্যাশনাল টিউবস। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ৩০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা উসমানিয়া গ্লাসের দর ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ, জেমিনী সি ফুডের দর ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, এটলাস বাংলাদেশের দর ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। মুন্নু জুট স্টাফলার্সের দর ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ, বীকন ফার্মার দর ৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের দর আট দশমিক ৫৫ শতাংশ, ওয়াটা কেমিক্যালের দর আট দশমিক ১৯ শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর সাত দশমিক ৯৮ শতাংশ ও শমরিতা হসপিটালের দর ছয় দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে ইউনাইটেড পাওয়ার। ভিএফএস থ্রেডের দর ১৭ শতাংশ, এমএল ডায়িংয়ের দর ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আরমিট সিমেন্টের দর ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, নর্দান জুটের দর ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ, সিলকো ফার্মার দর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, কপারটেকের দর ১২ দশমিক ২০ শতাংশ, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দর ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ন্যাশনাল টিউবস, জেএমআই সিরিঞ্জ, বীকন ফার্মা, মুন্নু সিরামিক, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, স্টাইল ক্রাফট লিমিটেড, ওয়াটা কেমিক্যাল, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, সিলকো ফার্মা, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩০৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৩২টির, কমেছে ১৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে এক দশমিক ৮৪ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক এক দশমিক ৮৪ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক কমেছে এক দশমিক ৭০ শতাংশ, সিএসআই সূচক এক দশমিক ২১ শতাংশ ও সিএসই৩০ সূচক এক দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে।
সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১০ কোটি ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৮৬ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭৫ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
২০ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে খুলনা প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং লিমিটেড। উসমানিয়া গ্লাসের দর ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ, ইমাম বাটনের দর ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ, কহিনূর কেমিক্যালের দর ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। এরপরের অবস্থানগুলোতে থাকা স্টান্ডার্ড সিরামিকের দর ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ, বীকন ফার্মার দর ৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ওয়াটা কেমিক্যালের দর আট দশমিক ৩২ শতাংশ, লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের দর সাত দশমিক ৪১ শতাংশ, শমরিতা হসপিটালের দর সাড়ে সাত শতাংশ, জিকিউ বলপেনের দর ছয় দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষ দশে উঠে আসে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড। এরপরে অবস্থান করে ভিএফএস থ্রেড ডায়িং, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, এমএল ডায়িং, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, তুংহাই নিটিং, নর্দান জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, ডরিন পাওয়ার, বেক্সিমকো লিমিটেড, সিলকো ফার্মা, মুন্নু সিরামিক, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, বীকন ফার্মা, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, জেনেক্স ইনফোসিস, সী পার্ল রিসোর্ট।

সর্বশেষ..