বাজার বিশ্লেষণ

ডিএসইতে সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে ৮.৩০ শতাংশ

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সূচকের পতন হলেও লেনদেন বেড়েছে।  মোট লেনদেন ও দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে আট দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহেও পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। এর মধ্যে তিন দিন সূচকের পতন হয়। দুদিন ইতিবাচক ছিল। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক, বেশিরভাগ শেয়ারদর ও লেনদেন কমেছে।                        

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৯ দশমিক ১০ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৮৭ শতাংশ কমে চার হাজার ৬৮২ দশমিক ৯০ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ২০ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৯১ শতাংশ কমে এক হাজার ৭৫ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস৩০ সূচক ৪৭ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৬২৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৬টির, কমেছে ২০৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৫ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৬১ হাজার ৫৩৬ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩০৯ কোটি ১১ লাখ ১২ হাজার ৪৯১ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বা আট দশমিক ৩০ শতাংশ।

গেল সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৬৭৩ কোটি ৮৮ লাখ সাত হাজার ৬৮১ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল এক হাজার ৫৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ৬২ হাজার ৪৫৩ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ১২৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা বা আট দশমিক ৩০ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৬১ হাজার ৯২ কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৮ কোটি সাত লাখ ৯৬ হাজার ৬২৮ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ৪৩ শতাংশ বা পাঁচ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা।   

গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ৩৯ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোয় থাকা স্টাইল ক্রাফটের ৩৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, ইয়াকিন পলিমারের ২৫ শতাংশ, মেট্রো স্পিনিংয়ের ২২ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের দর ২১ দশমিক ২১ শতাংশ, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, ভিএফএস থ্রেডের ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ, মুন্নু জুট স্টাফলার্সের ১৬ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ, সুহƒদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। 

অন্যদিকে ৪২ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে ইনটেক লিমিটেড। উসমানিয়া গ্লাসের দর ৩৭ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ, শাইনপুকুর সিরামিকসের ৩০ দশমিক ৮৮ শতাংশ, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ, তোসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, সালভো  কেমিক্যালের ২২ দশমিক ৫৮ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনের ২১ দশমিক ২১ শতাংশ, রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের ২০ দশমিক ৭১ শতাংশ, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালের দর ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ কমেছে।                                

ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি: হলো ন্যাশনাল টিউবস, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, স্টাইল ক্রাফট, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, মুন্নু সিরামিক, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, বিএটিবিসি, স্কয়ার ফার্মা ও মুন্নু জুট স্টাফলার্স।                    

অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩০১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০০টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির দর।

সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দুই দশমিক ১১ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক দুই দশমিক ১২ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক কমেছে দুই দশমিক ৩৭ শতাংশ,  সিএসআই সূচক কমেছে দুই দশমিক ২৩ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক কমেছে দুই দশমিক ১৮ শতাংশ।      

সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৩ কোটি ৪৮ হাজার ৮৭৪ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১২১ কোটি ৯১ লাখ ১৬ হাজার টাকা।     

৪৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ‘জেড’ ক্যাটেগরির এমারাল্ড অয়েল। মালেক স্পিনিংয়ের দর ১৫ দশমিক শূন্য চার শতাংশ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ফারইস্ট নিটিংয়ের দর ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। এর পরের অবস্থানগুলোয় থাকা আরামিট লিমিটেডের দর ১৪ দশমিক ৪০ শতাংশ, আইটি কনসালটেন্টসের ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ, গোল্ডেন সনের ১১ দশমিক ৭৬  শতাংশ, পদ্মা অয়েলের ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ, কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজের ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের দর ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।                                     

অন্যদিকে ২২ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল সাফকো স্পিনিং, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, জেনারেশন নেক্সট, বিডি ওয়েল্ডিং, জাহিন টেক্স, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, কপারটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, বীকন ফার্মা ও মিথুন নিটিং।           

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, সিলকো ফার্মা, ম্যারিকো বাংলাদেশ, ডরিন পাওয়ার, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও যমুনা অয়েল।

সর্বশেষ..