কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

ডিএসইতে সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে ১৮৪ কোটি টাকা। ডিএসইতে গতকাল প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ পয়েন্ট ইতিবাচক ছিল। বাকি দুই সূচকেও ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা গেছে। লেনদেনের শুরুতে সূচক নি¤œমুখী হলেও বিক্রির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে এবং শেষ সময় পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী গতি লক্ষ করা গেছে। তবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে। আর আগের দিনের চেয়ে ১৮৪ কোটি টাকা লেনদেন কমে ৮৩৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অবশ্য চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক, শেয়ারদর ও লেনদেন বেড়েছে।  

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৭৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করে।

ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক পাঁচ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮৭ দশমিক শূন্য এক পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক আট দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৫৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন তিন হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৫৯ হাজার ৬৫৬ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হয় ৮৩৭ কোটি ১৫ লাখ ২৮ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২১ কোটি ৩৪ লাখ তিন হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ১৮৪ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এদিন ২৯ কোটি ১২ লাখ ৫৮ হাজার ১১১ শেয়ার এক লাখ ৯৮ হাজার ১৩৫ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫৬ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১৮০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির দর।

গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সামিট পাওয়ার লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩০ কোটি পাঁচ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৬০ পয়সা। এরপর ওরিয়ন ফার্মার ২৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ৮০ পয়সা। লাফার্জহোলসিমের ২১ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে ৭০ পয়সা। খুলনা পাওয়ারের ১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৫০ পয়সা। এসকে ট্রিমসের ১৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ছয় টাকা ৪০ পয়সা। গ্রামীণফোনের ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা টাকা, ন্যাশনাল টিউবসের ১৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা, ডরিন পাওয়ারের ১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা, বেক্সিমকোর ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

১০ শতাংশ বেড়ে আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। বিএসআরএম স্টিলের ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, হাক্কানী পাল্পের ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, গ্লোবাল হেভী কেমিক্যালের ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।

ছয় দশমিক ২৫ শতাংশ কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ লিমিটেড। সায়হাম টেক্সটাইলের দর চার দশমিক ৮১ শতাংশ কমেছে। ফ্যামিলিটেক্সের ছয় দশমিক ৭৬ শতাংশ, ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের চার দশমিক ৫১ শতাংশ, তুং হাই নিটিংয়ের চার দশমিক ১৬ শতাংশ এবং জুট স্পিনার্সের দর চার দশমিক ১৪ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৩০ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে আট হাজার ৮২৮ দশমিক ২৭ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫০ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৪ শতাংশ  বেড়ে ১৪ হাজার ৫৫৪ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৬১ কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১৭টির, কমেছে ১১১টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির দর।

সিএসইতে এদিন ৮৬ কোটি ৩৬ লাখ ৩৮ হাজার ২১৮ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬৭ কোটি ৭০ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৪ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ১৮ কোটি ৬৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। 

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর পরের অবস্থানগুলোয় থাকা ব্যাংক এশিয়ার ১৪ কোটি, বীকন ফার্মার পাঁচ কোটি, সামিট পাওয়ারের দুই কোটি, যমুনা অয়েলের এক কোটি ৯১ লাখ ও এসএস স্টিলের এক কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..