প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডিএসই সিএসই সিডিবিএল ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আজ  

 

নিয়াজ মাহমুদ: পুঁজিবাজারে নতুন প্রডাক্ট চালুর পাশাপাশি তৈরি হয়েছে লেনদেন একদিনে নিষ্পত্তির সম্ভাবনা। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠন ও পরিচালনার জন্য চূড়ান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। স্বতন্ত্র এ কোম্পানিটির বাস্তব রূপ দিতে আজ বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল)। ডিএসই কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্ষদ প্রতিনিধি ও  ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি গঠন আইন চূড়ান্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রাথমিকভাবে কোম্পানির কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হবে। স্বতন্ত্র ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হলে শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড লেনদেনের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে নতুন প্রডাক্ট যেমন ডেরিভেটিভস, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা সম্ভব হবে। এছাড়াও লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা কমে আনারও সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

জানা গেছে, ২০১৪ সালের এপ্রিলে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তির সময়সীমা (সেটেলমেন্ট পিরিয়ড) চার দিন থেকে তিন দিনে কমিয়ে আনে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা তিন দিনের মধ্যে শেয়ার কেনা বা বিক্রির টাকা পাচ্ছেন। এ সময়সীমাকে পুঁজিবাজারের ভাষায় টি+২ বলা হয়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যখন টি+২ কার্যকর হয়, তখন বাজারে তারল্য প্রবাহ বেড়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। একইসঙ্গে বেড়ে যায় লেনদেনের পরিমাণ।

তাদের মতে, সময়ের প্রয়োজনে পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা কমানো জরুরি। পৃথক ক্লিয়ারিং অ্যান্ড স্যাটেলমেন্ট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হলে একদিনের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা হলে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

স্বতন্ত্র ক্লিয়ারিং অ্যান্ড স্যাটেলমেন্ট কোম্পানি গঠনের পর পুঁজিবাজারে কী ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হবে জানতে চাইলে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কেবল বিধিমালা হলো। এখন এটি বাস্তবায়নের পালা। যখন পৃথক কোম্পানি গঠন হবে, তখন শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি একদিনেই করার সুযোগ তৈরি হবে। উন্নত বিশ্বের পুঁজিবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডেরিভেটিভস, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা যাবে।’

এদিকে বিএসইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্লিয়ারিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হলে স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন একদিনেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এছাড়া আলাদা ক্লিয়ারিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হলে বর্তমানের মতো তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক লভ্যাংশ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের আগে স্পট ট্রেড বলে কিছু থাকবে না। রেকর্ড ডেটের দিন লেনদেন বন্ধ রাখারও প্রয়োজন পড়বে না বলে মনে করছে বিএসইসি।

বর্তমানে ক্লিয়ারিংয়ের কাজ উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ‘পৃথক ক্লিয়ারিং বিভাগ’ ও ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করছে। বিএসইসি মনে করছে, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউংনিট ও বন্ডের পাশাপাশি কমোডিটি মার্কেট এবং ডেরিভেটিভ মার্কেট চালু করলে স্বতন্ত্রভাবে ক্লিয়ারিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা দরকার। আর বর্তমানে যেভাবে ক্লিয়ারিং সম্পন্ন হচ্ছে, তখন সেভাবে করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, ক্লিয়ারিং অ্যান্ড স্যাটেলমেন্ট কোম্পানিটির ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার থাকবে ৬৫ শতাংশ। তবে একটি স্টক এক্সচেঞ্জ এককভাবে সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারবে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ (সিডিবিএল) ১০ শতাংশ, কৌশলগত বিনিয়োগকারীরা  নেবেন ১০ শতাংশ। তবে কৌশলগত বিনিয়োগকারী না পাওয়া পর্যন্ত এ শেয়ারগুলো সিডিবিএলের কাছে থাকবে। কৌশলগত বিনিয়োগকারী পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেসভ্যালুতে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর শেয়ারগুলো হস্তান্তর করবে সিডিবিএল। আর সব ব্যাংক মিলে বাকি ১০ শেয়ারের মালিক হবে। তবে একটি ব্যাংক এককভাবে সর্বোচ্চ দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারবেন।

অন্যদিকে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থাকবেন ১১ জন। এদের মধ্যে ছয়জন থাকবেন স্বতন্ত্র পরিচালক। বাকি পরিচালকদের মধ্যে প্রতি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে থাকবেন একজন করে সদস্য। বাকি শেয়ার মালিকদের মধ্য থেকে দুজন পরিচালক মনোনীত করা হবে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকারবলে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকবেন।

পৃথক ক্লিয়ারিং অ্যান্ড সেটেলমেন্টে অংশগ্রহণকারীর যোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, সেলফ ক্লিয়ারিংয়ে শুধু স্টক ব্রোকার বা স্টক ডিলাররা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্যদিকে পূর্ণ ক্লিয়ারিংয়ে শুধু উচ্চ নিট সম্পদ রয়েছেÑএমন প্রতিষ্ঠান, যারা সব ধরনের সেটেলমেন্ট ঝুঁকি বহন করতে পারবে, তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে। ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ব্রোকার বা ডিলার এতে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য হবেন। এই শ্রেণির ক্লিয়ারিং অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে খসড়ায় ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন এক কোটি টাকা উল্লেখ করা হলেও চূড়ান্ত বিধিমালায় এটি ৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

এদিকে চূড়ান্ত বিধিমালায় অংশগ্রহণকারীর নিবন্ধন ফি পূর্ণ ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা এবং সেলফ ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটি খসড়া বিধিমালায় ছিল যথাক্রমে এক লাখ ও ৫০ হাজার টাকা। তাছাড়া খসড়ায় সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি, লেনদেনের ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট-সংক্রান্ত সব তথ্য-উপাত্ত তার কার্যালয় থেকে ভিন্ন ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত অন্তত দুটি ভিন্ন স্থানে ন্যূনতম ১২ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করার কথা বলা হলেও চূড়ান্ত বিধিমালায় এটি ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।