প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডিজিটাল হচ্ছে চবির টেন্ডার প্রক্রিয়া

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫১ কোটি টাকার তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সনাতন ধারায় টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে ডিজিটাল হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় চবির অবকাঠামো উন্নয়ন করতে ৫১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকার তিনটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে জানুয়ারি মাসে ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প তিনটি হলো, বঙ্গবন্ধু হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ, আবাসিক শিক্ষকদের ভবন নির্মাণের কাজ, জীববিজ্ঞান অনুষদের চতুর্থ ও চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্মাণকাজ। এসব কাজের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের প্রকৌশল দফতর নির্ধারিত নির্মাণ ব্যয় ২৪ কোটি ৮৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩২ টাকা, জীববিজ্ঞান অনুষদের চতুর্থ দফা বর্ধিত অংশের ২২ কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার ৮১৬ টাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের জন্য পাঁচ তলাবিশিষ্ট প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর ডরমেটরির জন্য চার কোটি ২২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৬৮ টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে।

ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ই-টেন্ডারের বিষয়ে চট্টগ্রাম চবির প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আবু সাঈদ হোসেন শেয়ার বিজ্কে বলেন, গত ২৭ নভেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-টেন্ডার পদ্ধতিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল অধিদফতরের পাঁচ প্রকৌশলীকে ই-টেন্ডার পদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের সিডিউল বিক্রয়ের জন্য অনলাইনে এবং একই সঙ্গে পত্রিকায়ও বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে চবির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার নতুন দ্বার উšে§াচিত হবে। জানুয়ারি মাসে তিনটি প্রকল্পের কাজ ই-টেন্ডার পদ্ধতিতে স¤পন্ন করা হবে। ফলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে।

উল্লেখ যে, সনাতন পদ্ধতির মাধ্যমে চবির দ্বিতীয় কলা ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ও শেখ হাসিনা হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি কাজের প্রায় শতকোটি টাকার টেন্ডারের দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ টেন্ডারকে কেন্দ্র করে চবি ছাত্রলীগের কর্মীরা দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যার ফলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফানের মৃত্যু ও অনেক নেতাকর্মীরা বরণ করছে পঙ্গুত্ব। যাতে এ টেন্ডার নিয়ে আর কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ না হয় তারই পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইনে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু করা হচ্ছে।