প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মেট্রোরেল চালুর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে মেট্রোরেল ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-১) ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন বিষয়ক এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। রাজধানীতে পাতাল রেল নিয়ে কর্মপরিকল্পনার কথাও জানান এই কর্মকর্তা।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এমডি এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ‘উদ্বোধনের কোনো তারিখ আমরা পাইনি। আমরা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মেট্রোরেল লাইন উদ্বোধনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আমরা আশা করি, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই হবে।’

গত সেপ্টেম্বরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ডিসেম্বরে আমাদের বিজয়ের মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ এমআরটি লাইন-৬ এর উদ্বোধন করবেন।

কেন এ অংশটি ১৬ ডিসেম্বর চালু করা যাবে না জিজ্ঞেস করা হলে মেট্রোরেলের এমডি এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে অনেক কর্মসূচি থাকে। এজন্য এটা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে করা হবে।’ মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-৬) প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ভাড়া হবে ১০০ টাকা। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাড়া মওকুফ থাকবে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, আগামী বছর জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ বা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এমআরটি লাইন-১ এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরে পাতাল রেলপথের কাজ শুরু হয়ে যাবে। আপনারা জানেন, ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি প্যাকেজের বিভিন্ন অংশে কাজ করছি আমরা। আর কিছুদিন পরে বলতে পারব কবে টিভিএম মেশিনের মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ডের কাজ শুরু করতে পারব।

তিনি বলেন, আমাদের কয়েকটি জায়গায় ৩০ মিটার আবার কয়েকটি জায়গায় ৭০ মিটার নিচ দিয়ে পাতাল রেলপথ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যাবে। নিচ দিয়ে যখন টিভিএম মেশিন মাটি কেটে কেটে কাজ করে এগিয়ে যাবে, তখন ওপর থেকে কোনোভাবেই বোঝা যাবে না নিচে কাজ চলছে। কিন্তু এ পথে ১২টি স্টেশন আছে, যেগুলো ওপেন কাট পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে। এ ১২টি স্টেশন ওপেন কাট পদ্ধতিতে কাজ শেষ করে নিচে চলে যাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় লাগবে। এ ছয় মাস সময়ও রাস্তার অর্ধেকটা অংশ পুরোপুরি চালু থাকবে। বাকি অংশে আমরা কাজ করব এবং পরে আবার সেই অংশ ভরাট করে দেয়া হবে। যেখানে আমাদের স্টেশন আছে সেখানে সর্বোচ্চ ছয় মাস ট্রাফিক ড্রাইভারশন করতে হতে পারে। তবে অন্য কোনো জায়গায় ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের প্রয়োজন হবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা অন্তত ৩০ মিটার নিচ দিয়ে কাজ করব। বাংলাদেশের কোনো ইউটিলিটি লাইন এত নিচ দিয়ে নেই। যার ফলে পুরো রুট অ্যালাইনমেন্টে আমাদের কোনো ইউটিলিটি লাইন সরানোর প্রয়োজন পড়বে না। শুধু স্টেশন এলাকায় এটি প্রয়োজন পড়বে। সেখানে আমরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করব এবং সেই এলাকায় যে ইউটিলিটি লাইনগুলো যেভাবে আছে ঠিক সেভাবে রেখে আমরা নিচে চলে যাব।