ডিসেম্বরে বাজারে আসছে বসুন্ধরার ‘বীর সিমেন্ট’

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানি বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা বছরের ৩৩ লাখ ১২ টন। কিন্তু চলমান করোনা সংক্রমণ ও অন্যান্য কারণে সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। আর ৪০ শতাংশ অব্যবহƒত উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহারে বিজয় মাস ডিসেম্বরের মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেড বাজারে আনছে নতুন ব্যান্ড ‘বীর সিমেন্ট’। নতুন ব্র্যান্ডের সিমেন্ট বাজারজাত শুরু করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা সিমেন্ট ১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ৩৩ লাখ ১২ টন। কিন্তু চলমান করোনা সংক্রমণ ও অন্যান্য কারণে সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। আর ৪০ শতাংশ অব্যবহƒত উৎপাদন সক্ষমতা রয়ে যাচ্ছে। আর এ অব্যবহƒত সক্ষমতা ব্যবহারে আসন্ন বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেড বাজারে আনছে নতুন ব্যান্ড ‘বীর সিমেন্ট’। এ নতুন ব্র্যান্ডের সিমেন্ট বাজারজাত শুরু করার জন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের কোম্পানিটির মোট বিক্রি ছিল ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন; যা উৎপাদন সক্ষমতার ৩৫ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষণে জানা যায়, বাংলাদেশ বিশ্বে ৪০তম বৃহত্তম সিমেন্ট উৎপাদনকারী দেশ। আর দেশের মোট ১২৫টি সিমেন্ট কারখানা থাকলেও ৩৩টি সিমেন্ট কোম্পানি সক্রিয়। আর সবার সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা সাত কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চার কোটি এক লাখ মেট্রিক টন হলো কার্যকরী ক্ষমতা। তবে দেশের সিমেন্টের বাজারের ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে আবুল খায়ের গ্রুপের শাহ সিমেন্ট, বসুন্ধরা গ্রুপের মেঘনা ও বসুন্ধরা সিমেন্ট, সেভেন রিংস ব্র্যান্ডের সিমেন্ট, মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ সিমেন্ট, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, ক্রাউন ব্র্যান্ডের এম আই সিমেন্ট, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, হোলসিম সিমেন্ট ইত্যাদি।

বাংলাদেশে মাথাপিছু সিমেন্টের ব্যবহার তুলনামূলক কম। ফলে বাংলাদেশের এ খাতের প্রবৃদ্ধির অনেক সুযোগ আছে। ফলে বাড়াতে হবে উৎপাদন সক্ষমতা। এ কারণে গত কয়েক বছর ধরে কোম্পানিগুলো তাদের কারখানা সম্প্রসারণ করেছে। এতে বিদ্যমান কোম্পানিগুলোকে আগামী দশকে বিনিয়োগ আরও তিন থেকে চার গুণ বাড়াতে প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ ২০৩০-৩৫ সালে কোম্পানিগুলোর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা হতে হবে ২১ কোটি থেকে ২৪ কোটি মেট্রিক টন। আর এতে বিনিয়োগ করতে হবে  প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এই বৃহৎ পুঁজি সংগ্রহের প্রধান মাধ্যম হবে পুঁজিবাজার। এ সুযোগটাই পুরোপুরি কাজে লাগাবে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো। কারণ ব্যাংক খাতে বৃহৎ পুঁজি সরবরাহের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেডের কোম্পানি সচিব শাহরিয়ার মোল্লা এসিএস বলেন, বর্তমানে আমরা উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারছি। এতে ৪০ শতাংশের মতো অব্যবহƒত রয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের পরিচালনা পর্ষদ এ অব্যবহƒত উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করার জন্য বীর সিমেন্ট নামে নতুন একটি ব্র্যান্ড বাজারে আনার উদ্যোগ নেয়। এখন বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সসহ কিছু কাজ বাকি আছে। সব ঠিকঠাক থাকলে বিজয়ের মাসে নতুন ব্র্যান্ডের বাজারজাত শুরু হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৬৭  জন  

সর্বশেষ..