প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি বেড়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক লাখ ৫৬ হাজার চাকরি বেড়েছে। তবে নভেম্বরে সৃষ্ট দুই লাখ চার হাজারের তুলনায় এবং বাজার প্রত্যাশিত এক লাখ ৭৫ হাজার চাকরির নিচেই রইলো এটি। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্ব ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক আগে এ তথ্য প্রকাশিত হলো।খবর বিবিসি।

আগামী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ৪৫ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আগামী ১০ বছরে দেশটিতে ২৫ মিলিয়ন চাকরি সৃষ্টি করার অঙ্গিকার করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসস্টিক জানিয়েছে, আগের মাসের তুলনায় ডিসেম্বর নতুন চাকরি সৃষ্টি কমলেও মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে মজুরি বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এর আগে নভেম্বরে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, ঘন্টাপ্রতি আয়ের হিসাবে যা ছিল রেকর্ড এবং ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির হার। এর আগে অক্টোবরে চাকরির সংখ্যা ছিল এক লাখ ৭৮ হাজার।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২ দশমিক ২ মিলিয়ন, যা আগের বছরের তুলনায় কম। ২০১৫ সালে দেশটিতে চাকরি প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৭ মিলিয়ন।

অ্যাবারডিন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার লিউক বার্থেলেমিউ বলেন, গত মাসে চাকরি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে, তবে মজুরি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেড়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগে চাকরি ডেটা নেতিবাচক হলো, যেখানে ট্রাম্প প্রতিজ্ঞা করেছেন বড় ধরনের চাকরির বাজার সৃষ্টি করার।

তবে সবমিলিয়ে অর্থনৈতিক চিত্র সন্তোষজনক রয়েছে। তাই ট্রাম্পের লক্ষ অর্জনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন তিনি।

ওবামা প্রশাসনের এটাই সবশেষ চাকরির ডেটা। গত আট বছরে সবমিলিয়ে এ চিত্র ছিল ইতিবাচক। তার শাসনামলে প্রায় ১১ মিলিয়নের বেশি মানুষ চাকরি পেয়েছে। বেকারত্বের হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে। দুই বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। আর এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে ভোক্তা খরচ ও রফতানি খাত।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্যমতে, তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে তিন দশমিক দুই শতাংশ হারে। এর আগে দুই দশমিক নয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর এটাই প্রবৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার। ওই সময়ে উল্লেখযোগ্য রফতানি ও অভ্যন্তরীণ ভোক্তা খরচ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এদিকে চাকরির বাজারেও সম্প্রতি ইতিবাচক খবর এসেছে।

যাচাই-বাছাই শেষে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়িয়েছে। শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। গত এক দশকে এ নিয়ে দুবার সুদের হার বাড়াল ব্যাংকটি। এর আগে ২০১৫ ডিসেম্বরে সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছিল।

২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে দেশটির সুদের হার ছিল প্রায় শূন্য। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে সুদের হার শূন্যে নামিয়ে আনে ফেড। অর্থাৎ, কোনো সুদ ছাড়াই ব্যাংকগুলো ফেড থেকে অর্থ ধার করতে পারতো। যে হারে ব্যাংকগুলোকে ধার দেওয়া হয়, তাকে ‘ফেডারেল ফান্ডস রেট’ বা ‘নীতিনির্ধারণী সুদহার’ বলা হয়। ৭ বছর পর সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখা দেয়।

ফেডপ্রধান জ্যানেট ইয়েলেন ওই সমযে বলেন, অর্থনীতির জন্য স্বল্পমেয়াদে ধীরে ধীরে সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন এবং এবার একটি পরিমিত হারে বাড়ানো হয়েছে।

তবে ২০১৭ সালে আবার নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়ানো হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জ্যানেট। ‘ফেডারেল ফান্ডস রেট’ আগামী বছর ১ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৮ সালে ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০১৯ সাল নাগাদ ২ দশমিক ৯ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। জ্যানেট ইয়েলেন বলেন, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কৌশল কী হতে পারে, তা বিস্তারিত না জেনে কিছু বলা ঠিক হবে না। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে জানিয়েছেন, কর কমানো, ব্যয় বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মূল্যষ্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতিবিদেরা সুদ হার বাড়ানোর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।

রিজার্ভ ব্যাংকের মতে, সুদের হার বাড়ানো নির্ভর করে মূল্যষ্ফীতির ওপর। ব্যাংকটি পরবর্তী কয়েক বছরের জন্য মূল্যষ্ফীতির ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। যদিও এখনো যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যষ্ফীতি ২ শতাংশের নিচে রয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার আগামী তিন বছর ২ দশমিক ১ শতাংশ থাকবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া এ সময়ে বেকারত্বের হার কমবে এবং আগামী বছর মূল্যষ্ফীতি ১ দশমিক ৯ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যাংকটি।