শেষ পাতা

ডেকো এক্সেসরিজ বন্ড সুবিধার কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেকো এক্সেসরিজ লিমিটেড। বন্ডেড প্রতিষ্ঠানটি শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করে চোরাইপথে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় চার কোটি টাকার কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। গতকাল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে, ডেকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেকো ফুড লিমিটেডের বিরুদ্ধেও বিজ্ঞাপনের আড়ালে অর্থ পাচারের প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দারা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ড. মো. সহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এর সত্যতা নিশ্চিতে গত ১৩ এপ্রিল সহকারী পরিচালক মো. আবু হাসানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের টিম প্রতিষ্ঠানটির সাভারের হেমায়েতপুরে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধির সহযোগিতায় ওয়্যারহাউজে প্রবেশ করে কাঁচামাল গণনা করা করা হয়।
এতে দেখা যায়, ৩০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ইউপি’র সঙ্গে সর্বশেষ মজুতের তুলনা করে বিভিন্ন কাঁচামাল কম পাওয়া যায়। কমপ্রাপ্ত কাঁচামালের মধ্যে রয়েছে: পলিয়েস্টার ইয়ার্ন দুই হাজার ৪০৬ কেজি, আর্টকার্ড এক লাখ ৮৭ হাজার ৫০৫ দশমিক পাঁচ কেজি, প্রিন্টিং ইংক ১৯ হাজার ৮৮ কেজি এবং ডুপ্লেক্স বোর্ড দুই হাজার ৬৩৯ দশমিক ২২ কেজি, অ্যাডহেসিভ এক হাজার ৫৯৫ দশমিক ৫৩ কেজি, পিগমেন্ট ৭৫৯ কেজি, সাথিন আট হাজার ৪৯২ কেজি, কোবাল্ট ৬৪ কেজি, পিপি ২০ হাজার ৯৫১ কেজি, পিভিসি শিট ২৬০ কেজি। এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য এক কোটি ৩৭ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৬ টাকা; শুল্ককর প্রায় তিন কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার ৩৯১ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ড. মো. সহিদুল ইসলাম।
ডেকো ফুডের অর্থ পাচারের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ প্রতিষ্ঠানটি ১৫ বার বিদেশে পণ্য রফতানি করে এবং এর বিপরীতে ১৫টি ইএক্সপি শুল্ক গোয়েন্দায় জমা দেয়। এগুলোর মধ্যে সাতটি চালানের রফতানি অর্থ দেশে এসেছে। বাকিগুলোর অর্থ দেশে আসেনি। এভাবে ৯২ হাজার ৯৬৭ ডলার পাচার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া প্রাইম ব্যাংকের মাধ্যমে রফতানি করা অন্য একটি ইএক্সপিতে ১৬ হাজার ১২৮ ডলার রফতানি করা হয়। কিন্তু দেশে ছয় হাজার ৪৭৬ ডলার আসে। অর্থাৎ ৯ হাজার ৬১৫ ডলার দেশে আসেনি। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ক্রেতাকে ৫৯ দশমিক আট শতাংশ ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়। একই কায়দায় অন্য আরেকটি ইএক্সপিতে ক্রেতাকে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেওয়ার নামে বিদেশে আট হাজার ৮৬ ডলার রেখে দেওয়া হয়।
অপরদিকে, ঘোষণাতিরিক্ত ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি করায় চট্টগ্রামে কাস্টম হাউজে শুল্ককরসহ প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি চালানের বিভিন্ন পণ্য আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..