দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ডেঙ্গুতে দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার ঠিক দুই মাস পর রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০৮ জন।
দুই মাস আগে (২১ জুলাই) ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছিল। সেদিন ৪২১ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার আগের দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৮০ জন। ২১ জুলাইয়ের পর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়েছে। একদিনে সবচেয়ে বেশি দুই হাজার ৪২৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন গত ৭ আগস্ট, যা একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর রেকর্ড।
পুরো আগস্টজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হাজারের ওপরে ছিল। ৩০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭৬০ জনে নেমে আসে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যেহেতু ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০-৫০০ মধ্যে ওঠানামা করছে, সেহেতু কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যায়। ঢাকায় পরিস্থিতি ভালো। তবে ঢাকার বাইরে বিশেষ করে খুলনা এলাকায় এখনও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেশি। এ কারণে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যাবে না। তবে সেখানকার পরিস্থিতিও আগের চেয়ে ভালো। যশোর জেলায় একদিনে দেড়শ’ পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু শনিবার সেখানে ৪২ জন ভর্তি হয়েছে। আশা করছি সেখানেও কমে যাবে।’
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে ৮৪ হাজার ৩৯৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৮১ হাজার ৯৪২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন দুই হাজার ২৫২ জন রোগী।
চিকিৎসাধীন এবং নতুন ভর্তি রোগী দুটোই ঢাকার বাইরে বেশি। বর্তমানে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন আছেন ৯১৭ জন ডেঙ্গু রোগী। ঢাকার বাইরে চিকিৎসাধীন আছেন এক হাজার ৩৩৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৭৩ জন।
এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক নারী মারা গেছেন। হাসপাতালের উপপরিচালক চিকিৎসক লক্ষ্মীনারায়ণ মজুমদার জানান, শনিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতেমা আক্তার (৬৫) নামে এ নারী মারা যান। ফাতেমার বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে জ্বর নিয়ে এ হাসপাতালের ১২ নাম্বার ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি।
চিকিৎসক লক্ষ্মীনারায়ণ বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত ফাতেমার অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তাকে আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া হয়। শনিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে তিনি মারা যান।’
এছাড়া কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তারেক আহমেদ (২২) নামের এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার রওশন আরা বেগম স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সিভিল সার্জন বলেন, শুক্রবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তারেক। পরে শনিবার সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল প্রেরণ করা হয়। পরে সেখান থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু সন্দেহে ২০৩টি মৃত্যুর তথ্য তাদের কাছে এসেছে। এর মধ্যে ১১৬টি মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে ৬৮টি মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

 

ট্যাগ »

সর্বশেষ..