দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও তিনজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সারা দেশে কমে আসার মধ্যে ঢাকা, খুলনা ও কুষ্টিয়ায় এ জ্বরে আক্রান্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পর্যন্ত ২০৩টি মৃত্যুর তথ্য তাদের কাছে এলেও ১১৬টি পর্যালোচনা করে ৬৮টি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত কারণে বলে নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর।
গতকাল বিকাল পৌনে ৩টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শরীয়তপুরের শিশু তারিনের (১১)। শিশুটির ফুফু সাহিদা আক্তার বলেন, আগস্ট মাসের শেষের দিকে তারিনের জ্বর হলে শরীয়তপুরেই প্রথমে তার চিকিৎসা চলে। পরে ঢাকায় এনে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে আনা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
তারিন শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার পূর্ব মাছুয়াখালী গ্রামের নাসির তালুকদারের মেয়ে। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তারিন ৭ নম্বর পূর্ব মাছুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।
ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় মারা যান খবির উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি যশোরের অভয়নগরে। হাসপাতালের চিকিৎসক শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত খবির উদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।’
এদিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে যূথি (১১) নামের পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার রওশন আরা বেগম স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যূথি ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের নবগাঙ্গা গ্রামের জয়নাল আলীর মেয়ে।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার রওশন আরা বেগম জানান, গত শুক্রবার যূথি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। কিন্তু চিকিৎসা শেষ না করেই দুদিন পর গত রোববার তার পরিবারের সদস্যরা যূথিকে বাড়ি নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে যূথির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
চলতি বছর সারা দেশে ৮২ হাজার ৪৫৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য। তার মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে এখন দুই হাজার ৪৮৫ জন চিকিৎসাধীন। আর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৭৯ হাজার ৭৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন।
যদিও রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আবার বেড়েছে। তবে ঢাকার বাইরে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা কমে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১৯৮ জন নতুন রোগী।
এর আগে সোমবারের প্রতিবেদনে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় ১৯৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হন, যেখানে রোববার পর্যন্ত ভর্তি হয়েছিলেন ১৬৩ জন। শনিবার ঢাকার বাইরে ৩৭১ ও রাজধানীতে ১৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী পেয়েছিল হাসপাতালগুলো।
ঢাকার বাইরে অন্য জেলাগুলোর হাসপাতালে সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৪১৭ জন রোগী, যা গতদিনের চেয়ে ৪৩ জন কম।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ, রোগতত্ত্ব শাখার পরিচালক মীর জাদি সেব্রিনা ফ্লোরা আগেই জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কিছুটা বাড়তে পারে। রোগীর সংখ্যাও ওঠানামা করতে পারে।

সর্বশেষ..