দিনের খবর প্রথম পাতা

ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬০ হাজারের কাছাকাছি ঢাকায় দুজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:মশা নিধনে নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যেও সারা দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এছাড়া গতকাল ঢাকার দুটি হাসপাতালে দুজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানাচ্ছে, বছরের শুরু থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ হাজার ৫৯২ জন রোগী।
এ সময়ে রাজধানীতে নতুন ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও সারা দেশে কমেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকায় ৭৬১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, ঢাকার বাইরে ভর্তি হন ৮৩৬ জন। আগের দিন ঢাকায় ৭১১ এবং ঢাকার বাইরে ৯১৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
এক মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যাও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ২০০০ সালে দেশে প্রথমবার এ রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যেখানে ৫০ হাজার ১৪৮ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হন, সেখানে এ বছর শুধু আগস্টের ২২ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৪১ হাজার ১৩১ জন। এ তথ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের।
যদিও আগস্টের শেষদিকে এসে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৫৯৭ জন মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর আগে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৬২৬ জন, মঙ্গলবার এক হাজার ৫৭২ এবং সোমবার এক হাজার ৬১৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত জুনে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ব্যাপকতা বাড়ে জুলাইয়ে, সরকারি হিসাবেই সে সময় রেকর্ড ১৬ হাজার ২৫৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়ে ওঠে, ৭ আগস্ট একদিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪২৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
এ অবস্থা চলতে থাকে সপ্তাহখানেক প্রতিদিনই দুই হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে যান। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার রেখাচিত্রে অবনমন ঘটে ঈদের পরদিন ১৩ আগস্ট। ওইদিন এক হাজার ২০১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে তার পরদিন থেকে আবার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে একদিন এক হাজার ৪৬০ জন হলেও বাকি দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যাটি দেড় হাজারের বেশিই রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ছয় হাজার ১৪৭ জন। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ছয় হাজার ২৭৮ জন, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ছয় হাজার ৪৭০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় তিন হাজার ৩৩২ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় দুই হাজার ৮১৫ জন ভর্তি ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে যত রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তার থেকে বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। রাজধানীতে ভর্তি হয়েছেন ৭৫০ জন আর সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৭৫৬ জন। দেশের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮২২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৯ জন।
রাজধানী বাইরে ঢাকা বিভাগে ২৩৩, খুলনা বিভাগে ১৭৯, বরিশাল বিভাগে ১৩৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৯, রাজশাহী বিভাগে ৭৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ২২, রংপুর বিভাগে ৩৩ এবং সিলেট বিভাগে ২০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে।
এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকার দুটি হাসপাতালে গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মো. গিয়াস উদ্দিন নামে দুই সন্তানের বাবা। এর কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আরেক নারী।
এ দুজনকে নিয়ে এবার ডেঙ্গুতে ১৭৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গুতে ৪৭ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে গিয়াস উদ্দিনের মৃত্যু হয় বলে মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান। গিয়াস চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার পশ্চিম শিংরা গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে। পরিবার নিয়ে ঢাকার পোস্তগোলা এলাকায় থাকতেন তিনি।
এদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মামুন মোর্শেদ জানান, ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে ওই নারীর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি আমাদের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মারা গেছেন।’ তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি ডা. মামুন।

সর্বশেষ..