সম্পাদকীয়

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আরও সজাগ হওয়া উচিত

ডেঙ্গু আক্রান্তে সেপ্টেম্বরকেই পিক টাইম বলেন বিশেষজ্ঞজনরা। তবে এবার আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা কমে এসেছে। সেপ্টেম্বরের এই নিয়ন্ত্রিত দশা ইতিবাচক ছিল। তবে মধ্য সেপ্টেম্বরের পরে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এলেও গতকালের আচমকা বাড়তি সংখ্যা আবারও শঙ্কা জাগিয়েছে। এভাবে যদি বাড়তেই থাকে কিংবা বাড়ন্ত ধারা যদি স্থির থাকে, তবে পরিস্থিতি নতুন করে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে শোচনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এ যাবত যত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে যারা কাজ করছেন তাদের তৎপর থাকতে হবে। উপরন্তু, যে কোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি রাখতে হবে। তাছাড়া গ্রামের এডিস অ্যালবোপিকটাস নিয়ন্ত্রণে আশু উদ্যোগ নিতে হবে।
গত পরশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ৪০৮ জন। কিন্তু গতকাল হঠাৎ তা ৪৩০-এ পৌঁছে গেলে বিভিন্ন পত্রিকার খবরে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। উল্লেখ্য, এ বছর সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগস্টের চেয়ে কমে এলেও আগের বছরের চেয়ে তা অধিক। ফলে সেপ্টেম্বরের সংখ্যার হিসাবে পরন্ত দশা সন্তোষজনক বলা যায় না। তৃপ্ত হওয়ার কিছু নেই। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা একেবারে শূন্যে নামার আগ পর্যন্ত তা বিপদমুক্ত নয়। তাছাড়া এডিস মশাকে নির্মূল করাটাই বড় কথা। এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই। মশা থাকলে যে কোনো সময় রোগ ছড়াতে পারে। কেবল ঢাকা মহানগরকেই এই মশা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিলে চলবে না, যেহেতু সারা দেশেই তা ছড়িয়ে পড়েছে। এডিস ইজিপ্টি মশাকে শহুরে পরিষ্কার পানির মশা বলা হলেও গ্রামে এরই আরেক প্রজাতি এডিস অ্যালবোপিকটাস রয়েছে। ইজিপ্টিতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ে অ্যালবোপিকটাস এখন ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করছে ও ছড়াচ্ছে গ্রামাঞ্চলে। এই পরিস্থিতি নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে। উল্লেখ্য, গ্রামের আবাসন ব্যবস্থা ও গ্রামবাসীর সচেতনতার পরিস্থিতি বিচারে বিষয়টি গভীর উদ্বেগজনক। তাই গ্রামে এই এডিস অ্যালবোপিকটাস নিধনে কর্তৃপক্ষের কোমড় বেঁধে নামার বিকল্প নেই। গ্রামের বিস্তীর্ণ জলাভূমি, ঝোপঝাড়, নর্দমার মতো অপরিষ্কার স্থানেই এই মশা বাসা বাঁধে। গ্রামের মানুষ কৃষি বা দৈনন্দিন কাজে এসব জায়গায় খালি গায়েই চলাফেরা করেন। গ্রামবাসীকে সচেতন করানো এবং গ্রামের সর্বত্র বিষ প্রয়োগের বিকল্প নেই। কিন্তু সার্বিকভাবে মশানিধন কার্যক্রমের ফলাফল মহানগর তথা সারা দেশের কোথাও আশানুরূপ বলা যায় না।
এ অবস্থায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের মতো দেশব্যাপী সমন্বিত ও চূড়ান্ত উদ্যোগ নিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতর তথা রাষ্ট্রের সর্বস্তরেই সংশ্লিষ্টজনদের সজাগ থাকতে হবে।

সর্বশেষ..