সম্পাদকীয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিন

গত বছর দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দেয়। সরকারি হিসাবেই মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় দেড়শ’র মতো। এর আগে কখনও ডেঙ্গু এমন ভয়াবহ রূপ নেয়নি বলে অভিমত অনেকের। অন্যবার রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকলেও গ্রামাঞ্চলেও পরিস্থিতি বেশ নাজুক দেখা গেছে গত বছর। সব মিলিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টরা ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। শীত মৌসুমের বিদায়ে চলতি বছর আবারও মশার উৎপাত বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও সক্রিয় নয়। ফলে ডেঙ্গু নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

ঢাকার ১০ শতাংশ এলাকায় ‘ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এতে বলা হয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অন্তত ১০ শতাংশ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় ডেঙ্গুজ্বরের বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরিপ করে এ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রতি ১০০ প্রজনন উৎসের মধ্যে ২০টি বা তার বেশিতে লার্ভা পাওয়া গেলে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়। ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা উদ্বেগজনক বটে। সামনে গরম ও বর্ষার আগমনে মশা আরও বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে। দ্রুত মশা প্রতিরোধে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে কয়েক বছর ধরে। তবুও ঢাকায় মৃত্যুর হার বেশি। ডেঙ্গুর সমজাতীয় চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাবও সমান্তরালে বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ওপর জনমনের ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই বলছেন, ডেঙ্গুর ধরন বদলেছে, সে জন্য চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম হালনাগাদ করার কথা বলা হচ্ছে। তবে এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এবার পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে বৈকি।

খবরেই বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২ শতাংশ ও উত্তর সিটির ১০ শতাংশ ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। অবশ্য সংশ্লিষ্টদের দাবি, মশার উপস্থিতি, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা আগের তুলনায় কমেছে। তবে এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। কারণ, উৎস পুরোপুরি ধ্বংস না করা গেলে মশা কমানো যাবে না। সেক্ষেত্রে যে কোনো সময় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিষয়টি আমলে নিয়ে ঢাকার দুই সিটির নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..