সম্পাদকীয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ান

ডেঙ্গু পরিস্থিতি গণমাধ্যমের এখন নিয়মিত খবর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য হলো, শনিবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ১৬টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ৫২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল। আর সরকারি ৯টি হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৯২৯ জন রোগী। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১৬ জন রোগী।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছেন ঢাকার দুই মেয়র। ৭ জুলাই দক্ষিণের মেয়র ২৮ জন কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দিয়েছেন। মশা উপদ্রুত এলাকা চিহ্নিত করে তারা তথ্য দেবে। সেই তথ্য মোতাবেক মশক নিধনকর্মী পাঠানো হবে মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য। একইদিন উত্তরের মেয়র জানিয়েছেন, ডিএনসিসি’র সব এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো নিশ্চিত করতে লগবুক খোলা হচ্ছে। এই লগবুকের মাধ্যমে জানা যাবে কোন এলাকায় কখন মশা নিধন করা হয়েছে বা হয়নি।
দুই মেয়রের নেওয়া ব্যবস্থায় ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেছে কি না বা নগরবাসী সুফল পেয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে বলেই আমাদের ধারণা। ‘আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’ মন্তব্য করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি দল বলেছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর অবস্থা উদ্বেগজনক। আমরা মনে করি, সরকার এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
প্রথম দিকেই চিকিৎসা নেওয়া গেলে ডেঙ্গু প্রাণঘাতী নয়। আশার কথা, ডেঙ্গু বিষয়ে রাজধানীর দুই মেয়র ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। উত্তরের সাবেক মেয়রের মতো কেউ বলেননি ‘চিকুনগুনিয়া মহামারি হোক আর যা-ই হোক, এর জন্য কোনোভাবেই সিটি করপোরেশন দায়ী নয়। আর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মশা মারা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়।’ তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনও ডেঙ্গু নিয়ে সেভাবে কিছু বলেননি। কিন্তু রাজধানীর বাইরেও এর প্রকোপ বাড়ছে বলে খবর রয়েছে।
আমরা মনে করি, কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর বা লগবুকের চেয়ে ডেঙ্গু রোধে বড় ভূমিকা রাখবে জনসচেতনতা। গণমাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমের কল্যাণে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশা এবং এটির উৎপত্তিস্থল বংশবিস্তার প্রভৃতি সম্পর্কে সবাই কমবেশি জানি। ডেঙ্গুর ভাইরাস প্রতিরোধক ভ্যাকসিন এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। তাই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এ মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা।
সাধারণত যে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। দেশের সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও এভাবে এগিয়ে এলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কঠিন নয়। প্রচার ও গণমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বিষয়ে প্রচার বাড়লে তা সুফল বয়ে আনবে।

সর্বশেষ..