ডেঙ্গু মস্তিষ্কের বিশ্লেষণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়

ডেঙ্গুজ্বরের কারণে মস্তিষ্কের বিশ্লেষণী ক্ষমতা কমে যায়। ডেঙ্গুজ্বর থেকে সেরে ওঠার পর করণীয়:

সেরে ওঠার পর রোগী দুর্বল থাকে, অবসাদগ্রস্ত থাকে, মাথা হালকা থাকে, চলাফেরার সময় কিছু ভারসাম্যহীনতা থাকে, গভীর ও নিবিড়ভাবে কাজে মনোনিবেশ করা যায় না। যারা কাজে ব্যস্ত থাকেন, তারাও জ্বর থেকে সেরে ওঠার পর গভীরভাবে কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন না।

ডেঙ্গুর কারণে ব্রেনের বিশ্লেষণী ক্ষমতা কমে, তাই এ সময়ে ওই ধরনের কাজ করতে গেলে পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে না। এক ধরনের অবসাদ ও হতাশা সৃষ্টি হবে। সপ্তাহ দু-তিনেক পর রোগীর শারীরিক ও মানসিক কাজ করার ক্ষমতা আগের মতোই ফিরে আসবে। তাই ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর শিথিলতার সঙ্গে দু-তিন সপ্তাহ কাটাতে হবে।

কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জনকারীরা দ্রুত ওই ধরনের কাজে যাবেন না। সপ্তাহ দুয়েক শিথিলতার সঙ্গে সময় কাটান, তারপর আস্তে আস্তে ব্যস্ত হোন। এ সময় কিছু করণীয় হলো: প্রথমে বাড়িতে চলাফেরা করুন, তারপর বাড়ির আঙিনায় যান, এরপর উপাসনালয়, বাজারে যাওয়ার চেষ্টা করুন। অফিস-আদালতে হালকা রুটিনওয়ার্ক করুন। এভাবে সপ্তাহ দু-তিনেক কাটান। তারপর কাজ শুরু করুন।

জ্বরের সময় যে খাবারগুলো খেতে বারণ করা হয়েছে, সেগুলোকে এখনও না বলুন। আর যেগুলো খেতে বলা হয়েছে, সেগুলোকে এখনও হ্যাঁ বলুন। তরল খাবার আগের মতো বেশি না খেয়ে কিছুটা কমিয়ে ফেলুন। ফলমূল যেভাবে বেশি করে খেয়েছেন, সেভাবে না খেয়ে স্বাভাবিক সুস্থ মানুষ যেভাবে খায়, সেভাবে খেতে থাকুন। নরম খাবার, যেমন জাউভাত না খেয়ে এখন ভাত খান। তবে এ পর্যায়ে গুরুপাক খাবার, যেমন-রোস্ট, বিরিয়ানি প্রভৃতি না খেয়ে লঘুপাক বা কম মসলা দিয়ে সহজে হজম হয় এমন খাবার খান। নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার এ সময় ব্যায়াম করবেন না। প্রয়োজন হলে এক বা দুই মাস অপেক্ষা করুন।

ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর রাত জাগার অভ্যাস থাকলে এ অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। পারতপক্ষে রাত ১০টার পর আর জেগে থাকবেন না। রাতের বেলায় ক্ষতিপূরণকারী কিছু হরমোন শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। দিনের বেলায় জেগে থাকার ফলে যে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়, রাতে ঘুমানোর ফলে ওই বিষাক্ত পদার্থ নিঃশেষ হয়ে যায়। অর্থাৎ পরিপূর্ণ নিবিড় ঘুমের মাধ্যমে ব্রেন সতেজ হয়, মন সতেজ হয়, শরীরও সতেজ হয় এবং ক্লান্তি দূর হয়।

ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী

সাবেক অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ


সর্বশেষ..