প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ডেটানির্ভর ব্যবসায় তিন মোবাইল ফোন কোম্পানি

শরিফুল ইসলাম পলাশ: প্রতিযোগিতার মুখে গত কয়েক বছরে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কলরেট নির্ধারিত সীমার অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। বর্তমান বিশ্বে সর্বনিম্ন কলরেটের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। এতে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর আয় কমছে। তাই আয় বাড়াতে ইন্টারনেট ডেটা সার্ভিসের দিকে ঝুঁকছে কোম্পানিগুলো। শীর্ষ তিনটি কোম্পানি ৩জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে মনোযোগ দিচ্ছে। তাই বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের প্রভাবে গ্রাহক কমলেও মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় সাড়ে ৭৬ লাখ বেড়েছে। এতে ভর করে বাড়ছে কোম্পানিগুলোর আয়।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালের আগস্টে টেলিকম খাতের শীর্ষ কোম্পানি গ্রামীণফোনের গ্রাহক ছিল পাঁচ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার, যা চলতি বছরের আগস্টে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার কমেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ কোটি ৪৫ লাখ সাত হাজার। গ্রাহক কমলেও আয় উল্টো ১১ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছে ইন্টারনেট  ডেটা আয়। ওই প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইন্টারনেট ডেটা আয় আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৭২ শতাংশ বেড়েছে। এর বিপরীতে ভয়েস কল থেকে আয় বেড়েছে ছয় দশমিক ছয় শতাংশ। অন্যদিকে ৩জি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রায় ২২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে কোম্পানিটি। অন্যদিকে ইন্টারনেট ডেটা থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করছে শীর্ষ কোম্পানি গ্রামীণফোন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে রবি। অন্যদিকে একই খাত থেকে আয় বৃদ্ধির কারণে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলালিংকের আয় বেড়েছে।

ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বিষয়ে গ্রামীণফোনের এক্সটারনাল কমিউনিকেশনস বিভাগের প্রধান সৈয়দ তালাত কামাল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘গ্রাহকদের বিশ্বমানের সেবা প্রদানের জন্য মোবাইল খাতে বিনিয়োগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে গ্রামীণফোন প্রথম থেকেই এদিকে নজর দিয়েছে। ২জির মতো ৩জিতে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। গ্রাহকদের আরও নতুন নতুন সেবা প্রদানের জন্য এ ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

ইন্টারনেট সেবা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে কোম্পানিগুলো। এ খাতে বিনিয়োগে সবচেয়ে এগিয়ে টেলিকম খাতের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কোম্পানি রবি। ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে চলতি বছরের সর্বশেষ প্রান্তিকে রবি ২৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর পরের অবস্থানে গ্রাহকসংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা কোম্পানি বাংলালিংক। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ২৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে তারা।

অন্যদিকে ২০১৫ সালের আগস্টে টেলিকম খাতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কোম্পানি রবির গ্রাহক ছিল দুই কোটি ৮৩ লাখ ১৬ হাজার। যা চলতি অর্থবছরের একই সময় ৫০ লাখ ৫৩ হাজার কমে দুই কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজারে নেমেছে। বায়োমেট্রিকের কারণে গ্রাহক কমলেও রবির আয় কমেনি। উল্টো ১১ দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে রবি আয়ে প্রবৃদ্ধি ধারা ধরে রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে ইন্টারনেট ডেটা। সর্বশেষ প্রান্তিকে রবির ইন্টারনেট ডেটা আয় আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। ইন্টারনেট ডেটা থেকে আয়ের ওপর ভর করে কোম্পানিটির মোট আয় ১১ দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।

রবির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘২০১৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে মোবাইল ফোন সেবা থেকে আমাদের রাজস্ব লক্ষণীয় পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চলতি বছরের জুন থেকে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনহীন সিমের সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তারপরও গ্রাহকদের সেরা মোবাইল সেবা প্রদানের জন্য আমরা ২.৫জি/৩.৫জি নেটওয়ার্কের বিস্তার ও আধুনিকায়নে ক্রমাগত বিনিয়োগ করে চলেছি।’

টেলিকম খাতের অপর কোম্পানি বাংলালিংকও ইন্টারনেট  ডেটানির্ভর। ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বাংলালিংকের গ্রাহক ছিল তিন কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার, যা চলতি বছরের একই সময় তিন শতাংশ কমে দুই কোটি ৮৯ লাখ ৭৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে গ্রাহক কমলেও আয় কমেনি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় তিন শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২৩০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে বাংলালিংকের ইন্টারনেট ডেটা থেকে আয় আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। এর বিপরীতে ভয়েস কল থেকে আয় বেড়েছে দুই শতাংশ। এছাড়া ওই সময় বাংলালিংকের ইন্টারনেট ডেটার ব্যবহার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

প্রান্তিক প্রতিবেদন বিষয়ে বাংলালিংকের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরিক অস্? বলেন, ‘আমাদের দেওয়া ডিজিটাল সেবাগুলোর যেগুলো ২০১৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই সাফল্য অর্জনে সহায়ক হয়েছে, সেগুলো নিয়ে গ্রাহকের মাঝে এমন সাড়া দেখে আমরা উৎসাহিত হয়েছি। যেহেতু আমরা সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে এগিয়ে যাচ্ছি। এ কারণে গ্রাহকদের সেরা ও উন্নততর ডিজিটাল সেবা উপহার দিতে আমরা প্রত্যয়ী।’