দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কর্তৃত্ব হারালেন মনিরুজ্জামান ও আহমেদ জামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা ও ব্যাংক খাত-সংক্রান্ত ইস্যুগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে ৪৪টি বিভাগের মাধ্যমে। তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে বিভাগগুলো বণ্টন করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পর্যায়ে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান ও আহমেদ জামালের কাছ থেকে সরিয়ে নেন গভর্নর ফজলে কবির।

অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো রাখা হয় তাদের কাছে। গত ৩ ডিসেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে অভ্যন্তরীণ সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে ডেপুটি গভর্নরদের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশের ব্যাংক খাতে কর্তৃত্ব কমল দুই ডেপুটি গভর্নরের।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকে ২০১৬ সালে রিজার্ভ চুরির পর থেকেই দুজন ডেপুটি গভর্নর কাজ করছেন। অন্য দুটি পদ শূন্য ছিল। গত সপ্তাহে নতুন করে দুই ডেপুটি গভর্নর (ডিজি) নিয়োগ দেয় সরকার। এর মধ্যে একজন হচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমান ও অপরজন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সাজেদুর রহমান খান।

নতুন ডেপুটি গভর্নর হওয়ায় বিভাগগুলো পুনর্বণ্টনের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিভাগ হিসেবে দেখা হয়, বিআরপিডি, ব্যাংক পরিদর্শন, অফসাইট সুপারভিশন, ফরেক্স রিজার্ভ ও ডেট ম্যানেজমেন্টকে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও ডেপুটি গভর্নরদের মধ্যে সিনিয়রদের কাছেই এসব বিভাগ রাখা হয়। কিন্তু এবার সেই প্রথা ভেঙে নতুনদের কাছে দেয়া হলো। এসব বিভাগ এখন আর পুরোনো ডেপুটি গভর্নরদের কাছে রাখা হয়নি।

ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নতুন যোগ দেয়া কাজী ছাইদুর রহমানের অধীনে দেয়া হয় ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি), ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগসহ ১০টি বিভাগ। এর মধ্যে ব্যাংকিংয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হিসেবে দেখা হয় ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগকে। নতুন ব্যাংক অনুমোদন, পরিচালনা, সুদ ছাড়, বিশেষ ঘোষণাসহ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো নেয়া হয় এ বিভাগের মাধ্যমেই। এ বিভাগের মাধ্যমে ঘোষিত নীতিমালার আলোকেই পরিচালিত হয় দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত। করোনাকালে ঘোষিত প্রণোদনা ঋণ প্যাকেজও এ বিভাগের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদান করা অপর ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খানকে দেয়া হয় আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ তথা অফসাইট সুপারভিশন ও ব্যাংক পরিদর্শন। এছাড়া ব্যাংক পরিদর্শনের সব বিভাগ (বর্তমানে ৪টি), আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনসহ সব মিলিয়ে ১০টি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে।

গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বাধিক বিভাগ পেয়েছেন সাজেদুর রহমান খান। বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো দেয়া হলো। নতুন দুই ডেপুটি গভর্নরদের দেয়া বিভাগগুলো এতদিন পুরোনো ডেপুটি গভর্নররাই দেখে আসছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নতুনদের ওপরই হঠাৎ করে ভরসা শুরু করছেন। পুরোনোরা অভিজ্ঞ ছিলেন। কী কারণে এটি করলেন তা বোধগম্য হচ্ছে না। হয়তো ব্যাংকটিকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে চাচ্ছেন, যা তাদের মাধ্যমে সেভাবে হয়নি।

আবার বিপরীত কথাও হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে। সেটি হলো, দুই ডেপুটি গভর্নরদের মধ্যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধিকাংশ সময়ই বিপরীতমুখী মতামত দেখা দেয়। কিছু সিদ্ধান্ত আন্তঃবিভাগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সেগুলো বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছিল। এছাড়া কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিশেষ তদবিরে খেলাপিদের একাধিকবার সুবিধা দেয়া, ব্যাংকিং পরিদর্শন কমিয়ে আনা। কিছু ক্ষেত্রে একেবারেই বন্ধ করে দেয়া। এসব সিদ্ধান্ত যতটা না লিখিত, তার চেয়ে বেশি মৌখিক ছিল। এগুলো নেয়া হয় ডেপুটি গভর্নরদের পক্ষ থেকে। এছাড়া এত বেশি বিভাব তদারকি করাটাও সমস্যা হচ্ছিল।

জানা গেছে, সিনিয়র ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানকে মুদ্রানীতি, মানবসম্পদ, মানিটারি পলিসি, কমন সার্ভিস, এসএমইসহ সব মিলিয়ে দেয়া হয় ১২টি বিভাগ। আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে তার চাকরির মেয়াদ। এদিন তার বয়স ৬২ বছর পূর্ণ হচ্ছে। অন্যদিকে ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালকে দেয়া হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, বৈদেশিক মুদ্রানীতি, গবেষণা বিভাগ, পেমেন্ট সিস্টেম, ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রেটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস, নিরাপত্তা বিভাগ মিলিয়ে ১২টি। তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

বিভাগগুলো বণ্টন করে দেয়ার পরে তা জানিয়ে দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে। ফলে আজ রোববার থেকেই বিভাগগুলোর নথি যাবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..