সম্পাদকীয়

ঢাকাকে বসবাসের আরও উপযোগী করতে উদ্যোগ নিন

শহর হিসেবে ঢাকার অতীত ঐতিহ্য রয়েছে। ৪০০ বছরের পুরোনো এ শহর মোগল আমল থেকে এ পর্যন্ত কয়েকবার রাজধানীর মর্যাদা পেয়েছে। এখনও রাজধানীর মর্যাদা অক্ষুন্ন রয়েছে। দেশের বর্ধনশীল শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা শীর্ষে। বর্তমানে এর জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি।
কিন্তু গতকালের জাতীয় দৈনিকগুলোয় এক হতাশাজনক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। তা হলো বিশ্বের বাস-অযোগ্য শহরের তালিকায় প্রথম সারিতে ঢাকা। ইকোনমিস্টের তালিকায় স্থান পাওয়া বাস-অযোগ্য অন্য শীর্ষ শহরগুলোর বেশিরভাগই হয় যুদ্ধকবলিত, না হয় দারিদ্র্যপীড়িত। ঢাকা এমন কোনো সমস্যায় নেই। এটি বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিবিশিষ্ট দেশের রাজধানী, যে দেশটি অন্য দেশগুলোর জন্য ‘রোল মডেল’।
প্রায়ই বলা হয়, রাজধানীকে বাসযোগ্য পরিকল্পিত শহর গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটির সুফল নগরবাসী কতটা পাচ্ছে সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। তবে সেটি যে ইতিবাচক নয়, তা বলা যায়। বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর গবেষণা জরিপ অনুসারে গত কয়েক বছর বাসযোগ্য শহরের তালিকার নিচের দিকেই রয়েছে দেশের প্রধান শহরটি।
রাজধানীর গর্বিত বাসিন্দারা এরই মধ্যে জেনেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিবিষয়ক সাময়িকী দি ইকোনমিস্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, বাস-অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা বিশ্বে তৃতীয়। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ এ শহর। এক দশক ধরে এ তালিকায় কাছাকাছি অবস্থানেই থাকছে ঢাকা।
অবস্থান নিরূপণে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েছে ইকোনমিস্ট, সেগুলো হলো শহরের স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো। জীবনযাত্রার জন্য এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ঢাকায় বসবাসকারীরা এসব নাগরিক সুবিধা যথানিয়মে পাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে খোদ কর্তৃপক্ষগুলোর কর্মকর্তারাই বিব্রত হবেন বলে ধারণা। এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক উত্তর পাওয়া যাবে না। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত হবে সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া।
ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য ও উন্নত শহর হিসেবে গড়তে রাজউক প্রণয়ন করেছে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ)। এটি বাস্তবায়ন করলে নগরে জলাভূমি সংরক্ষণ, উন্নত বাসস্থান, প্রশস্ত সড়ক, উম্মুক্ত স্থান, বিনোদনকেন্দ্রসহ নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত হবে। দুঃখজনক বিষয় হলো, মশা, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতা রোধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিতে হয় উচ্চ আদালতকে। যানজট, জলাবদ্ধতা, পয়োনিষ্কাশন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ দূষণ প্রভৃতি সমস্যা থেকে নাগরিকদের রেহাই দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই ঢাকা বাস-অযোগ্য শহরের তালিকায় থাকবে না, হয়ে উঠবে অন্য শহরগুলোর জন্য রোল মডেল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..