দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ঢাকায় ৩০৫ আইসিইউ বেডের মধ্যে খালি ৯০টি

জটিল রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে ক্রমেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জটিল রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। ঢাকা মহানগরীতে করোনা ডেডিকেটেড ১৯টি হাসপাতালে কমে আসছে খালি আইসিইউ বেডের সংখ্যা। ঢাকার হাসপাতালে ৩০৫টি আইসিইউ বেডের মধ্যে এখন খালি আছে মাত্র ৯০টি। অথচ মাঝে একটা সময় ফাঁকা বেডের সংখ্যা রোগীভর্তি বেডের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, করোনা রোগীদের শতকরা ৮০ শতাংশের মধ্যে মৃদু লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের হাসপাতালে যেতে হয় না। বাকি ২০ শতাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশের উপসর্গ তীব্র হয় এবং হাসপাতালে যেতে হয়। বাকি পাঁচ শতাংশের অবস্থা থাকে জটিল, তাদের আইসিইউ বেডের পাশাপাশি দরকার হয় ভেন্টিলেটর।

দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম তিন জন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মে মাসের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে রোগী শনাক্তের হার চলে যায় ২০ শতাংশের ওপরে। এ অবস্থা চলতে থাকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে থাক। প্রায় এক মাসের বেশি সময় শনাক্তের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে ছিল। তবে গত ২ নভেম্বর থেকে শনাক্তের হার বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সরকারি হাসপাতালের মধ্যে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে করোনা ডেডিকেটেড আইসিইউ বেড ১৬টি, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১০টি, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০টি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬টি। এই সবক’টি বেডেই রোগী ভর্তি রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪টি বেডের মধ্যে রোগী রয়েছেন ২২ জন, দুটি শয্যা ফাঁকা; রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ১৫টি শয্যার মধ্যে রোগী আছেন ১২ জন, তিনটি শয্যা ফাঁকা; শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের ১৬টি শয্যার মধ্যে রোগী আছেন ছয়জন, ১০টি শয্যা ফাঁকা এবং সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ছয়টি শয্যায় রোগী আছেন তিনজন, তিনটি শয্যা ফাঁকা।

বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ বেড শূন্য দেখানো হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের ১০টি শয্যার মধ্যে রোগী আছেন ৯ জন, ফাঁকা রয়েছে একটি শয্যা; আসগর আলী হাসপাতালের ৩১টি শয্যার মধ্যে রোগী আছেন ২৫ জন, ছয়টি শয্যা ফাঁকা; স্কয়ার হাসপাতালের ২৫টি শয্যার মধ্যে রোগী আছেন ১৪ জন, ফাঁকা রয়েছে ১১টি; ইউনাইটেড হাসপাতালের ২২টি শয্যার মধ্যে রোগী আছেন ১৪ জন, ফাঁকা আটটি; ইম্পালস হাসপাতালের ৫৬টি শয্যায় রোগী আছেন ১৪ জন, ফাঁকা ৪২টি এবং এএমজেড হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ বেডে রোগী আছেন ছয়জন, বাকি চারটি বেড ফাঁকা আছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে ইবনে সিনা হাসপাতালের ছয়টি শয্যা, এভার কেয়ার হাসপাতালের ২০টি শয্যা এবং বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ১২টি শয্যাতেই রোগী ভর্তি আছেন। অর্থাৎ, ঢাকা মহানগরীর করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৩০৫টি শয্যার মধ্যে রোগী আছেন ২১৫ জন, বাকি ৯০টি শয্যা শূন্য রয়েছে।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীর ১০টি হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৩৯টি। এর মধ্যে রোগী আছেন ১৮ জন, ফাঁকা শয্যা রয়েছে ২১টি। আর সারা দেশের অন্যান্য জেলায় করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২১১টি। এর মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ৬৮ জন, আর শয্যা ফাঁকা রয়েছে ১৪৩টি। সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য মোট আইসিইউ রয়েছে ৫৫৫টি। এর মধ্যে রোগী ভর্তি আছেন ৩০১ জন, আর ফাঁকা রয়েছে ২৫৪টি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..