সম্পাদকীয়

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করুন

কয়েক দশকের মধ্যে চলতি বছর ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে। প্রথমে ঢাকায় ব্যাপকহারে ছড়ালেও পরে গ্রামাঞ্চলেও এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অবশ্য রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমলেও গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। ঢাকার বাইরে এখনও প্রায় প্রতিদিনই প্রাণহানির সঙ্গে নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ না থাকা উদ্বেগের মূল কারণ। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা অনেক প্রাণহানির কারণ হতে পারে। এজন্য ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর প্রকোপ অপরিবর্তিত’ শিরোনামে একটি খবর ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজধানীতে ধীরে ধীরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমলেও ঢাকার বাইরে অবস্থা এখনও খারাপ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬১৯ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বাইরেই রয়েছেন ৪৫৬ রোগী। গত শনিবার ঢাকার বাইরে ৩৭১ জন আর ঢাকায় ১৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরেই এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে রাজধানীর বাইরের হাসপাতালগুলোয় চাপ বাড়ছে সন্দেহ নেই।
অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু সন্দেহে ১৯৭টি মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এর মধ্যে ১০১টি পর্যালোচনা করে ৬০ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর, যদিও এ সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। চলতি বছর সারা দেশে মোট ৮১ হাজার ১৮৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে এবার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ডেঙ্গু-আক্রান্ত হয়েছেন, তা স্পষ্ট। প্রাণহানির ঘটনাগুলো কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, কারণ ডেঙ্গুতে প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য স্বপ্নভঙ্গের গল্প। অনেক পরিবার পড়ে যাচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগে। ডেঙ্গু-আক্রান্তদের চিকিৎসায়ও বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে, যা অনেক পরিবারের জন্য বহন করা অসম্ভব।
ডেঙ্গু-আক্রান্ত হওয়ার আগেই যাতে তা রোধ করা যায়, সেটির এখন বেশি গুরুত্ব পাওয়া জরুরি। ডেঙ্গুতে এবার যে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ রয়েছে। তারা এর দায় এড়াতে পারেন না। সেক্ষেত্রে কারোর অবহেলা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি শহর থেকে গ্রাম সবপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আগামীতে যাতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেজন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সর্বশেষ..