স্পোর্টস

ঢাকার বিদায়, ফাইনালের পথে চট্টগ্রাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক: আগের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এবারও শক্তিশালী দল গড়েছিল ঢাকা। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে শুরু থেকে দলটির ক্রিকেটাররা ঠিকমতো পারেনি নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। যে কারণে চলতি টুর্নামেন্টে মাশরাফি বিন মুর্তজাদের ফাইনালে ওঠা নিয়ে জেগেছিল শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হয়েছে। গতকাল এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের কাছে ৭ উইকেটে হেরে দলটি টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিয়েছে। এর ফলে ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে গেছে বন্দরনগরীর দলটির।

বিপিএলের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিল্ডিংয়ের সময় হাতে চোট পেয়ে ১৪ সেলাই পড়লেও গতকাল মাঠে নেমেছিলেন ঢাকা প্লাটুনের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাতে দলটির খেলোয়াড়রা হয়েছিল চাঙা। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে এক শাদাব খান ছাড়া আর কেউ তেমন পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। এ সুযোগে চট্টগ্রামের দুই পেসার রুবেল হোসেন ও রিয়াদ এমরিত বল হাতে আগুন ছোটান। তাতে দিশেহারা হয়ে পড়ে ঢাকার ব্যাটসম্যান। পরে সহজ লক্ষ্যমাত্রা পেয়ে ক্রিস গেইল ও জিয়াউর রহমান বন্দর নগরীর দলকে এনে দেন দারুণ শুরু। পরে ইমরুল কায়েস (৩২) আর শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর (৩৪) ঝড়ো ব্যাটে ভর করে সহজেই ১৪ বল হাতে রেখে জিতে যায় চ্যালেঞ্জার্স।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল টস জিতে আগে বল হাতে নিয়ে ঢাকার ৮ উইকেট তুলে নিয়ে ১৪৪ রানে আটকে রেখে চট্টগ্রাম। পরে ব্যাট করতে নেমে ১৪ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

সহজ লক্ষ্য তাড়ায় গতকাল ৫.২ ওভারে চট্টগ্রামকে ৪২ রানের ভালো শুরু এনে দেন ক্রিস গেইল আর জিয়াউর রহমান। এর মধ্যে ১২ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ২৫ রান করেন ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া জিয়া। তবে এ ডানহাতি নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেহেদি হাসানের স্পিন ফাঁদে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন। তবে অন্য প্রান্তে গেইল পথ চলছিলেন অনেকটাই ধীরে। সে ধরে রেখে দ্বিতীয় উইকেটে এ বাঁহাতি ইমরুল কায়েসকে নিয়ে গড়ে তোলেন ৪৯ রানের জুটি। এরপরই গেইল ৪৯ বলে ১ চার ও ২ ছয়ে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে শাদাব খানের বলে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।

এবারের বিপিএলে দুর্দান্ত খেলছেন ইমরুল। গতকালও ২২ বলে ১ চার ও ৩ ছয়ে ৩২ রানের ঝলক দেখান তিনি। তবে এদিন ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি এ বাঁহাতি। সেই কাজটাই করেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এর আগে এ ডানহাতি ঝড় তোলেন ঢাকার বোলারদের ওপর। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ১৪ বলে ৪ ছয়ে ৩৪ রানে। সে সময় অন্য প্রান্তে তার সঙ্গী ছিলেন চাদউইক ওয়ালটন ১২ রানে।

এর আগে বল হাতে শুরু থেকেই ঢাকার ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখেন রুবেল হোসেন ও মেহেদি হাসান রানা। এর মধ্যেই ইনিংসের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে তামিম ইকবালকে বোল্ড করে ফেরান রুবেল। কিছুক্ষণ পরই এনামুল হক বিজয়কে তুলে নেন রিয়াদ এমরিত। এরপর দ্রুতই মাহমুদউল্লাহ ফেরান লুইস রেসকে। এদিকে মেহেদি হাসান ও জাকির হোসেন টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। যে কারণে ৪৩ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে ঢাকা। সেখানকে দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন ওপেনার মুমিনুল হক ও শাদাব খান।

দলের বিপদে গতকাল মুমিনুল খেলেন সিঙ্গেল-ডাবলের ওপর ভর দিয়ে। তবে শাদাব খান বড় শট খেলে এগোন। মুমিনুল ৩১ বলে ৩১ রানে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত শাদাব ঝড়ে (৪১ বলে ৫ চার ৩ ছয়ে) চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে ঢাকা। কিন্তু গেইল-ইমরুল-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের কাছে ওই রান কিছুই মনে হয়নি। যে কারণে এবারের বিপিএল ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হয়েছে ঢাকাকে।

ঢাকা প্লাটুন: ২০ ওভারে ১৪৪/৮ (তামিম ৩, মুমিনুল ৩১, বিজয় ০, রিস ০, মেহেদী ৭, জাকের ০, শাদাব ৬২, আসিফ ৫, থিসারা ২৫, মাশরাফি ০; রুবেল ২/৩৩, রানা ০/২৯, নাসুম ২/১১, মাহমুদউল্লাহ ১/৫, এমরিত ৩/২৩, জিয়া ০/৩৯)।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৭.৪ ওভারে ১৪৭/৩ (গেইল ৩৯, জিয়া ২৫, ইমরুল ৩২, মাহমুদউল্লাহ ৩৪*, ওয়ালটন ১২*; মাশরাফি ০/৩৩, মেহেদী ১/২০, হাসান ০/৩৬, রিস ০/১০, থিসারা ০/১৪, শাদাব ২/৩২)।

ফলাফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: রিয়াদ এমরিত (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..