দিনের খবর প্রথম পাতা

ঢাকা ক্লাবের ভ্যাটের ৩৪ কোটি টাকা দিতেই হবে

অব্যাহতির আবেদন প্রত্যাখ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অভিজাত ঢাকা ক্লাব লিমিটেড। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চূড়ান্ত দাবিনামা জারির পর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ রাজস্ব পরিশোধ করেনি। অ্যালকোহল বিক্রি, প্রতিষ্ঠানের সেবা বিক্রি ও ব্যয়ের বিপরীতে এ রাজস্ব দাবি করে এনবিআর। রাজস্ব পরিশোধে প্রতিষ্ঠানকে সর্বশেষ বারের সুযোগ দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

১৪ জানুয়ারি এ চিঠি দেয়া হয়। যাতে ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়। অন্যথায় ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ না করে উল্টো তা অব্যাহতির জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করে। অব্যাহতি সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে এনবিআর। সম্প্রতি এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (মূসক আইন ও বিধি) কাজী রেজাউল হাসান সই করা এক চিঠি ঢাকা ক্লাব প্রেসিডেন্টকে দেয়া হয়। যাতে বলা হয়, ‘ঢাকা ক্লাবের আবেদন আমলে নিতে এনবিআর অপারগ। মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দাবিনামা জারি করায় আলোচ্য পাওনা থেকে অব্যাহতি প্রদানের সুযোগ নেই। সে কারণে এ বিষয়ে এনবিআর অপারগতা জ্ঞাপন করছে।’

চিঠিতে জানানো হয়, ‘সংশ্লিষ্ট মূল্য সংযোজন কর কার্যালয় কর্তৃক সরকারি পাওনা বাবদ ঢাকা ক্লাব লিমিটেডের কাছে মূল্য সংযোজন কর ২৬ কোটি ৬৯ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৩ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক বাবদ ৭ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫৮ টাকাসহ মোট ৩৩ কোটি ৭৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৩১ টাকার দাবিনামা জারি করা হয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক প্রদানের দায় থেকে অব্যাহতি নিয়ে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৫৬-এর আওতায় সব ধরনের স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে।’

সূত্রমতে, রাজস্ব পরিশোধ না করায় ঢাকা ক্লাবের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার এনবিআরের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৮ সালের ৮ মার্চ চিঠি দেয় ভ্যাট ঢাকা দক্ষিণ কমিশনারেট। ২৪ এপ্রিল ৫৫(১) ধারা প্রয়োগের নির্দেশনা দেয় এনবিআর। সে অনুযায়ী ৫ নভেম্বর চূড়ান্ত নোটিস জারি করা হয়। ২৯ নভেম্বর ঢাকা ক্লাব কর্তৃপক্ষ দুই মাসের সময় প্রার্থনা করে। ২৪ ডিসেম্বর পুনরায় পাওনা পরিশোধে চূড়ান্ত নোটিস জারি করা হয়। পুনঃনিরীক্ষা চেয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন। সে বিষয়ে দক্ষিণ কমিশনারেটের কাছে মতামত চাওয়া হলে ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মতামত দেয়া হয়। ১৩ মে ব্যবস্থা নিতে এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়। এর মধ্যে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ঢাকা ক্লাব কর্তৃপক্ষ বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করেনি। সর্বশেষ ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করতে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় ভ্যাট দক্ষিণ কমিশনারেট। যাতে রাজস্ব পরিশোধ না করা হলে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..