সম্পাদকীয়

ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর উন্নয়নে বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত কাম্য

সাধারণত ৫০ বা ১০০ বছরের চাহিদার কথা মাথায় রেখে গ্রহণ করা হয় পরিকল্পনা। বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পেছনে থাকে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার আশা। হয়তো দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে, কিন্তু এর আগে অনেক মূল্য দিতে হয়। আমরা কখনও নকশায় ভুল, কখনও পরিকল্পনায় ভুল করি। ভুলের খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। শতকোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। কোনো প্রকল্প নেয়ার আগে ভুল ধরা পড়ে না। ধরা পড়ে বাস্তবায়নের পর; বিল পরিশোধের পর। অনেক সময় ভুল সংশোধনের জন্য আবার নেয়া হয় প্রকল্প। এখন প্রশ্ন উঠছে, ভুল পরিকল্পনার আর কত খেসারত দেবে সাধারণ মানুষ।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘এক্সপ্রেসওয়ে নয়, হাইস্পিড ট্রেন: ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর উন্নয়নে ভুল পরিকল্পনায় বাংলাদেশ!’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকদের হতাশ করবে। খবরে বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে যান চলাচল দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় মূল মহাসড়কের পাশে ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয় এক দশক আগে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নও করা হয়েছে, যা ২০১৬ সালে অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে হাইস্পিড ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যদিও হাইস্পিড ট্রেন কখনোই এক্সপ্রেসওয়ের বিকল্প হতে নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেলের সীমাবদ্ধতা হলো, এটি স্টেশনভিত্তিক ব্যবস্থা। যাত্রীরা একটি নির্দিষ্ট স্টেশনে থেকে ওঠানামা করতে পারেন। যে কোনো স্থানে যাওয়ার জন্য সড়কপথ আদর্শ ব্যবস্থা। পণ্য পরিবহনসহ যাত্রীদের চাহিদা পূরণে সড়কব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার এক্সপ্রেসওয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। এক্সপ্রেসওয়ে না হওয়ায় এখন এ অর্থ গচ্চা যাচ্ছে। হাইস্পিড ট্রেন চালুর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ কোটি টাকা। এ রুটে সম্ভাব্য ভাড়া পড়বে প্রায় চার হাজার টাকার মতো। এটি বিমান ভাড়ার চেয়ে বেশি।

এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য মূলত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য খুবই উপযোগী। রপ্তানির অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো অপরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভুটান-নেপালের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ও চট্টগ্রাম বন্দর বা গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার নিয়ে যে সম্ভাব্যতা রয়েছে, তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ার সুযোগ ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের। হাইস্পিড ট্রেন কোনোভাবেই এর বিকল্প নয়।

মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশ পর্যটননির্ভর নয়। আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর উৎপাদিত রপ্তানিপণ্য চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ী গভীর বন্দরে পৌঁছাতে এক্সপ্রেসওয়েই বেশি প্রয়োজন। পণ্য পরিবহনের কথা বিবেচনায় রাখলে হাইস্পিড ট্রেন প্রকল্প থেকে সরে আসতে হবে। উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে, এসডিজি অর্জনে সফল হতে হলে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ যুক্তিযুক্ত হতে পারে বলেই আন্তর্জাতিক নানা উদাহরণ প্রমাণ করে। তাই ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর উন্নয়নে সরকার বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..