প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ঢাকা রিজেন্সির পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

নিয়াজ মাহমুদ : বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওতে পুঁজিবাজারে আসতে রোড শো করা ‘ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন লন্ডনপ্রবাসী তিন বিনিয়োগকারী। বিষয়টি অবহিত করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে চিঠিও দিয়েছেন তারা। চিঠিতে ঢাকা রিজেন্সির পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার আবেদন জানানো হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গত বুধবার এ-সংক্রান্ত চিঠি বিএসইসি-তে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে লন্ডনপ্রবাসী কাজী ফয়সাল আহমেদ, কাজী কায়সার আহমেদ ও কাজী জুবেল আহমেদের আবেদনের বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে বিএসইসির চেয়ারম্যানের সুস্পষ্ট মতামতসহ একটি স্বয়ংসম্পন্ন প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। চিঠির সঙ্গে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের অভিযোগপত্রটিও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী বরাবর পাঠানো অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কোম্পানির মালিকানার জটিলতা নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের সাবেক পরিচালক আরিফ মোতাহার, কবির রেজা (বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক) ও মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ (বর্তমান চেয়ারম্যান) নামের তিনজন উদ্যোক্তা হোটেল প্রতিষ্ঠাকালে কোম্পানির পরিচালক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্রিটেনপ্রবাসী বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির কাছ থেকে  টাকা নিয়েছেন। শুরুতে তাদের পরিচালনা পর্ষদে রাখাও হয়। তাদের নামে বিজনেস কার্ড করে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময় কৌশলে তাদের পর্ষদ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, কোম্পানিটির অন্য বিনিয়োগকারীদের মতো কাজী ফয়সাল আহমেদ, কাজী কায়সার আহমেদ ও কাজী জুবেল আহমেদের প্রায় আড়াই লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ রয়েছে। তারা উদ্যোক্তাদের অনিয়ম ও প্রতারণার শিকার হয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা হয়।

এদিকে প্রবাসীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের কোম্পানি সচিব মিজানুর রহমান সিদ্দিকী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কোম্পানিতে ১২৪ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছে। অভিযোগকারী তিনজনই আপন ভাই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী কোনো কোম্পানির পরিচালক পদ পেতে হলে ন্যূনতম দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক। তবে তাদের তিন ভাইয়ের মোট শেয়ার দুই শতাংশের কম হওয়ায় তারা পরিচালক হতে পারছেন না।’

অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠির প্রসঙ্গে কোম্পানি সচিব বলেন, ‘অফিসিয়ালভাবে এখনও চিঠিটি আমাদের কাছে আসেনি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি পত্রটি আমাদের দিয়ে জবাব চায়, তাহলে আমরা জবাব দেবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন শেয়ারহোল্ডার হিসেবে কোম্পানির লভ্যাংশ তারা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে এজিএমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তাদের রয়েছে। এর আগেও তারা অভিযোগ করেছিল, তার ভিত্তিতে দুদক তদন্তও করেছিল। কিন্তু বিষয়টির সত্যতা মেলেনি’ বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে বিনিয়োগকারীদের দায়ের করা মামলায় জেল খাটেন ঢাকা রিজেন্সির বর্তমান চেয়ারম্যান মুসলেহ উদ্দিন আহমদ ও পরিচালক আরিফ মোতাহার।

জানা গেছে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের এ কোম্পানিটি বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়ায় আইপিওর মাধ্যমে ৬০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করবে। আর এ জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে রোড শো করেছে ঢাকা রিজেন্সি। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজার রয়েছে যৌথভাবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট ও বাংকো ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। আর রেজিস্টার টু দ্য ইস্যু হিসেবে রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে হোটেলটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আইপিওর ৬০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করবে। আইপিওতে উত্তোলিত অর্থ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে ঋণ পরিশোধে। কোম্পানির বিদ্যমান পণ্য ও সেবার আধুনিকীকরণে ব্যয় করা হবে ১০ কোটি টাকা। কক্সবাজারে হোটেল নির্মাণে ব্যয় করা হবে ২৭ কোটি টাকা। আর আইপিও বাবদ খরচ করা হবে তিন কোটি টাকা।

কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৬০ কোটি টাকা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা ৪২ পয়সা। তবে আগের বছর এ ইপিএস ছিল তিন টাকা ১১ পয়সা। আলোচিত বছরে কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ২৫৬ টাকা। যা এর আগের বছরে ছিল ১৮ কোটি ৬৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯০৪ টাকা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ৩১ টাকা ৩৫ পয়সা।

ধারাবাহিকভাবে ইপিএস কমে যাওয়া প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান সিদ্দিকী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকায় বিদেশি গ্রাহক কমে যায়। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে পড়ে। ফলে আমাদেরও মুনাফা কমেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দীর্ঘ মেয়াদে হলে চলতি বছর থেকেই মুনাফা বাড়বে’ বলে জানান কোম্পানি সচিব।