দিনের খবর শেষ পাতা

ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক একনেকে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন শীর্ষক একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সড়কটি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক করিডোরের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রকল্পটি অনুমোদনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব বড় সড়কে টোল আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন।

একনেক সভায় গতকাল ১৯ হাজার ৮৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ৯টি প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর সরকারের নিজস্ব তহবিল ৬ হাজার ৫৯৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং বিদেশি ঋণ ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় অংশ নেন। একনেক শেষে দুপুরে এনইসিতে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সংশোধিত প্রকল্প তিনটি এবং নতুন প্রকল্প ছয়টি।

নতুন অনুমোদিত ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটিতে সরকার দেবে ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি ৯০ লাখ এবং এডিবি ঋণ দেবে ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পটি অনুমোদনকালে প্রধানমন্ত্রী বড় সড়কে টোল আরোপের নির্দেশ দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তার (প্রধানমন্ত্রী) ধারণা, বিনা পয়সায় সেবার দিন শেষ। আমাদের এমন মনোভাব সবকিছুর সেবা চাই কিন্তু পয়সা দিতে রাজি না। বিশেষ করে যাদের পকেটে পয়সা আছে, তারা দেয়ই না। এটা আমাদের কালচার, এ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। প্রধানমন্ত্রী চান, যেসব বড় সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, সেগুলোয় টোল আদায় হোক।’

সরকারপ্রধানের বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঢাকা-সিলেটে যে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো থেকে আমরা টোল আদায় করব। এ সম্পর্কে আবার তিনি বলেছেন, এই টোল শুধু সরকারের রাজস্ব আদায়ের জন্য নয়, এর একটি অংশ ব্যয় করা হবে সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে।’

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘বিটিসিএলের ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৯৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।’

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পশ্চিম গোপালগঞ্জ সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৩৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলাধীন দৌলতখান পৌরসভা

ও চকিঘাট এবং অন্যান্য অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন হতে রক্ষা’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে ৫২২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন’ প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

এছাড়া সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন প্রস্তুাব আনা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৯৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সংশোধনীতে ৫৩৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪ হাজার ৫১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদও বেড়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, এখন সময় বাড়িয়ে করা হলো ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন’ প্রকল্পেরও প্রথম সংশোধন আনা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৫৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। সংশোধনীতে ৩১ কোটি ৭ লাখ টাকা খরচ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। দুই বছর প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে এখন করা হলো ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম জেলাধীন হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলায় হালদা নদীর উভয় তীরের ভাঙন থেকে বিভিন্ন এলাকা রক্ষাকল্পে তীর সংরক্ষণ কাজ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মূল খরচ ছিল ২১২ কোটি ৭ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে এর খরচ বেড়েছে ১০৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়াল মোট ৩৪৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..