প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

‘ঢাকা হবে এশিয়ার পাজল অ্যাপের রাজধানী’

নাদিম মজিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে পড়ালেখা করছেন। পাশাপাশি পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করছেন এন কে সফট নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে। গুগলে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে অনুবাদের কাজ করেন। জনপ্রিয় অনলাইন শিক্ষা মাধ্যম কোরসেরাতে মেন্টর হিসেবেও সময় দেন। তার নেতৃত্বে তৈরি মোবাইল অ্যাপ ‘ব্রেইন ইকুয়েশন’ তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে পুরস্কার অর্জন করেছে। ব্রেইন ইকুয়েশন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গেÑ

শেয়ার বিজ: পড়াশোনা, চাকরি ও ব্রেইন ইকুয়েশন; এ তিনের সমন্বয় করেন কীভাবে?

নাদিম মজিদ: পড়াশোনা আমার কাছে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ক্লাস করি। ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার সময় গাড়িতে লেকচার শিটে চোখ বুলিয়ে নিই। পরীক্ষার সময় অন্য কোনো কাজ রাখি না। সাধারণত অফিসে ঢুকি দুপুর বারোটার মধ্যে। সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ক্লাস শুরু হয়। ক্লাস থাকলে বিকাল ৫টায় অফিস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ি। ব্রেইন ইকুয়েশন মূলত শিক্ষামূলক পাজল অ্যাপ। এ অ্যাপের আইডিয়া, নির্দেশনা এবং ১৬৮টি পাজল তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছি। মূলত সময়মতো কাজ করার ফলে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয় না।

শেয়ার বিজ: ব্রেইন ইকুয়েশনের সার্বিক দিক নিয়ে বলুন।

নাদিম মজিদ: ব্রেইন ইকুয়েশন বাংলাদেশে তৈরি একটি বিশ্বমানের পাজল অ্যাপ। নতুন আইডিয়া হওয়ায় অ্যাপটি সুডোকু ও শব্দ ছকের মতো জনপ্রিয় হবে বলে মনে করি। ব্রেইন স্টর্মিং, গণিত শেখা ও অবসর সময় কাটাতে এটি যে কারো উপকারে আসবে।

সরল অঙ্কের মৌলিক নিয়মকে কাজে লাগিয়ে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। কোনো সারি বা কলামে যোগ, বিয়োগ, গুনন, ভাগের কাজ থাকলে প্রথমে ভাগের কাজ, তারপর গুননের কাজ, সবশেষে যোগ ও বিয়োগের কাজ হবে। অ্যাপ ব্যবহারকারী যেন একই ধরনের পাজল খেলে বিরক্ত না হয়, তাই পাঁচ ধরনের ডিফিকাল্টি লেভেল রাখা হয়েছে।

শেয়ার বিজ: ব্রেইন ইকুয়েশন কাদের উপযোগী করে বানানো হয়েছে?

নাদিম মজিদ: সুডোকু ও শব্দ ছক যেমন সব বয়সী ব্যক্তি মেলাতে পছন্দ করে, ব্রেইন ইকুয়েশনও সবার উপযোগী। তবে গণিত নিয়ে যাদের ভয় আছে বা গণিত পছন্দ করেন, তাদের এ অ্যাপ দারুণ কাজে দেবে।

শেয়ার বিজ: অ্যাপটি তৈরির চিন্তা কী করে এলো? আর এর শুরুটা হলো কীভাবে?

নাদিম মজিদ: ছোটবেলা থেকে পত্রিকার শব্দছক ও সুডোকু মেলাতে পছন্দ করতাম। ২০১৩ সালে ঢাকায় আসার পর একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা থেকে পাজল লেখার অফার পেয়ে কাজ শুরু করি। ২০১৪ সালে নতুন বছর উপলক্ষে নতুন পাজেলের আইডিয়া নিলে এ পাজেলের আইডিয়া দিই। আইডিয়া তাদের পছন্দ হয়। সমীকরণ জট নামে ছাপা হতে থাকে। যে কোনো উদ্ভাবন বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে মোবাইল অ্যাপ দারুণ কাজে লাগে। তাই নিজের আইডিয়াকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু করি।

শেয়ার বিজ: এ বছর তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে পুরস্কার জিতলো ব্রেইন ইকুয়েশন। পুরস্কার সম্পর্কে বলুন।

নাদিম মজিদ: আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের প্রথম অ্যাপ পুরস্কার পাওয়া সত্যিই দুর্দান্ত ব্যাপার। অ্যাপটি যেন বিশ্বমানের হয়, তাই কোরসেরা থেকে তিনটি কোর্স করেছিলাম। অন্য পাজল অ্যাপ খেলে নিজের আত্মবিশ্বাস সমৃদ্ধ হয়েছে। আগামী বছর অস্ট্রিয়ায় ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড সামিটে অ্যাপটি বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।

শেয়ার বিজ: পুরস্কার জেতার আগের সময়টা ও পরের সময়টার মাঝে কেমন পার্থক্য খুঁজে পান?

নাদিম মজিদ: ব্যবহারকারীর দিক থেকে বাংলা ভাষা বিশ্বে অষ্টম। এ ভাষায় প্রচুর অ্যাপ থাকা প্রয়োজন। আমরা বাংলা ভাষায় পাজল অ্যাপ সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ শুরু করেছি। ইচ্ছে ছিল, সব কাজের ফাঁকে ফাঁকে অ্যাপ বানাবো। প্রতি তিন মাসে একটি অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে ছাড়বো।

ব্রেইন ইকুয়েশন ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। আমরা খেয়াল করে দেখেছি, বাংলা ভাষা ছাড়াও এশিয়ার প্রচলিত হিন্দি, উর্দু, আরবী, সিংহলিজসহ অন্য ভাষা দিয়েও পাজল অ্যাপ কম তৈরি হয়েছে। আমরা বাংলা পাজল নামে পাজল অ্যাপ তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। ২০ লাখ স্মার্টফোন ব্যবহার করে এমন ভাষার জন্যও আমরা অ্যাপ তৈরির চিন্তা করছি। দুই বছর পর আমরা দেখাতে চাই, ঢাকা এশিয়ান পাজল অ্যাপের রাজধানী।

শেয়ার বিজ: শিশুদের জন্য বিশেষ কিছু করার ইচ্ছে আছে? থাকলে পরিকল্পনার কথা শুনতে চাই।

নাদিম মজিদ: শিশুরা যেন আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে, এজন্য মোবাইল অ্যাপ তৈরির চিন্তা আছে। এ বছরের মধ্যে কয়েকটি অ্যাপ তাদের হাতে তুলে দিতে চাই।

শেয়ার বিজ: বাংলাদেশে অ্যাপ তৈরির সম্ভাবনা ও বাধা কোথায় বলে আপনার মনে হয়?

নাদিম মজিদ: ফেসবুকের কথাই ধরুন, প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় বাংলাদেশের বাজেটের চেয়েও বেশি। বাংলাদেশের মানুষদের মধ্যে মেধার কোনো ঘাটতি নেই।

বাংলাদেশে এখন দুই ধরনের বাধা রয়েছে।

এক. বাংলাদেশের মানুষ ফেসবুকসহ গুটিকয়েক অ্যাপ ব্যবহার করেন। প্রয়োজনীয় অ্যাপ তৈরি করে বিনামূল্যে দেওয়া হলেও ব্যবহার করতে আগ্রহ বোধ করেন না।

দুই. বিশ্বে ৫০ লাখের ওপরে মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। অথচ বাংলাদেশ থেকে তৈরি হয়েছে মাত্র সাড়ে তিন হাজার। এ অ্যাপের অনেকগুলোই গুণগত মানসম্পন্ন নয়। তাই গুণগত মানসম্পন্ন অ্যাপ তৈরি করে ধৈর্য ধরে এগুতে হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে তৈরি প্রয়োজনীয় অনেক অ্যাপ জনপ্রিয় হবে বলে আমার বিশ্বাস।

শেয়ার বিজ: ব্রেইন ইকুয়েশন নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

নাদিম মজিদ: ব্রেইন ইকুয়েশনকে আমরা সুডোকু ও শব্দ ছকের মত খেলা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করতে চাই। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এ অ্যাপ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা আইফোনের জন্যও এ অ্যাপ তৈরির কাজ হাতে নিয়েছি। আমি পাঁচ বছর ধরে পাজল লিখি আসছি। সে অভিজ্ঞতা ও পাজল শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ না রেখে সারাবিশ্বে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে চাই।