Print Date & Time : 23 May 2022 Monday 2:31 am

ঢাবির শতবর্ষপূর্তি উৎসবের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ১৬ দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে এগিয়ে আসতে হবে। এই জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি নেতৃত্বের জায়গায় দেখতে চান।’

বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি প্রসারের সাফল্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে তথ্যপ্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় বিশ্বব্যাপী সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারেন, সেভাবে তাদের গড়ে তুলতে হবে।

অবকাঠামো কিংবা বিভাগের সংখ্যার চেয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ঠিক করে দেয়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কালের পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে এর অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিযোগিতারও আন্তর্জাতিকীকরণ হয়েছে। তাই একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও পাঠ্যক্রম নির্ধারণ ও পাঠদানের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের কথা বিবেচনায় রাখার নির্দেশনা দেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এগিয়ে চলছে। কয়েক বছর পরই পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের ঢেউ বইতে শুরু করবে। তাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে বলে রাষ্ট্রপতি অনুধাবন করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য মা-বাবা, অভিভাবক, দেশ ও জনগণের যথেষ্ট বিনিয়োগ আছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবার, দেশ ও জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

১৯২১ সালের ১ জুলাই রমনার সবুজ প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পূর্ববঙ্গের প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেদিন ১২টি বিভাগ ও ৮৭৭ শিক্ষার্থী নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক পথচলা শুরু হয়েছিল, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ৮৪টি বিভাগ ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার।

ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাঙালির প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সূতিকাগারের মতো ভূমিকা রাখে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি বাংলাদেশ যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কিন্তু এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার লক্ষ্যে এখন থেকে সর্বাত্মকভাবে কাজ শুরু করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজ্ঞানের সঙ্গে ব্যক্তিক ও সামষ্টিক চেতনার সমন্বয় ঘটানোই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালি জাতির শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, গবেষণা-উদ্ভাবন, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, প্রগতিশীল ভাবনা, জাতি-গঠন ও দেশাত্মবোধের চেতনার এক তেজোদ্দীপ্ত আলোকবর্তিকা; বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার এক অনন্য বাতিঘর।

করোনা মহামারির কারণে আয়োজনটি পাঁচ মাস দেরিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বাংলাদেশ মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ।

এ সময় ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শতবর্ষের তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও থিম সং পরিবেশন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের থিম সং পরিবেশন করেন দেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পীরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। থিম সংয়ের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে ক্যাম্পাসকে।

বিকাল সাড়ে ৫টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের আয়োজন শেষ হয়েছে।