প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আরও প্রকল্প গৃহীত হোক

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে দুটি প্রকল্প সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইনফো সরকার-৩ নামের একটি প্রকল্পে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে দেশের ২৬০০ ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক কেব্ল্ সংযোগের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো মিনি বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি ১২০০ পুলিশ স্টেশনকেও একই সঙ্গে ফাইবার অপটিক কেব্লের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। অপর প্রকল্পটির মাধ্যমে রাজশাহীতে ৩১ একর জমিতে বরেন্দ্র সিলিকন ভ্যালি স্থাপন করা হবে, যাতে ১৪ হাজার ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০১৮ সালের মধ্যে। লক্ষণীয়, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দুটো বড় প্রকল্পই বাস্তবায়িত হচ্ছে ঢাকার বাইরে এবং দুটো প্রকল্প থেকেই মূলত তরুণ-যুবকরা উপকৃত হবে। এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ দিন দিন ভালো করছে। বিশেষ করে আউটসোর্সিংয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের তরুণ-যুবকরা সাড়া ফেলেছে। এ খাত থেকে যে পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা নিয়ে আসছে, সে তুলনায় তাদের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে কম; কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধাটুকুও পাচ্ছে না। এর বড় উদাহরণ উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের অভাব। যদিও এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে ব্রডব্যান্ড বলতে যা বোঝায়, আমাদেরগুলো তার ধারেকাছেও নেই। অথচ আউটসোর্সিংয়ের জন্য দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ডের বিকল্প নেই। শহর বা পৌরসভা এলাকায় এসব টিমটিমে ব্রডব্যান্ড থাকলেও গ্রামাঞ্চলে সে সুযোগটুকুও নেই। তবু এরই মধ্যে আমাদের তরুণরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই বিদেশি মুদ্রা আনছে। ফাইবার অপটিক কেব্ল্ সংযোগের কাজটি সম্পন্ন হলে এ সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে। আমরা দেখেছি, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ এর আগে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক ছিল। এবার বরেন্দ্র সিলিকন ভ্যালির মতো একটি বড় উদ্যোগ রাজশাহীতে স্থাপন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এতে এ অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। রাজশাহী ও আশপাশের এলাকার অনেকেই আউটসোর্সিং বা তথ্যপ্রযুক্তির অন্যান্য কাজে আগ্রহী হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির আদলে রাজধানীর বাইরে এমন একটি ভ্যালি স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় সরকারকে সাধুবাদ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও যেন এ-ধরনের সুবিধাসমৃদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, সে আহ্বান থাকবে।

রাজধানী ঢাকায় দিন দিন চাপ বাড়ছে। এ চাপ কমাতে এবং আইটি শিল্পকে বিকেন্দ্রীকরণের জন্যই এ-ধরনের একাধিক উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এসব বিষয়ে সচেতন। তাদের হাত ধরে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি জগতে নতুন নতুন উদ্যোগ গৃহীত হবে আশা করছি।