প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

তথ্যসমৃদ্ধ হতে হবে বিনিয়োগকারীদের

রুবাইয়াত রিক্তা: বেশ কিছুদিন পতনমুখী থাকার পর বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। লেনদেন ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু এক দিন বা দুই দিন বাড়ার পরই সংশোধন হচ্ছে বাজারে। আর সূচকের এই বাড়া বা কমার ব্যবধান অনেক বেশি হচ্ছে। কারণ বাজারসংশ্লিষ্ট কোনো খবরে ইদানীং বিনিয়োগকারীদের অতি প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। যদি কোনো ইতিবাচক খবর হয় তো সূচক এক দিনে ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। আবার পরদিন যদি কোনো খবর বাজারের জন্য নেতিবাচক হয়, তাহলেও এক দিনেই সূচক ১০০ পয়েন্টের বেশি নেমে যায়। বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণেই এমনটি ঘটছে, যার কারণে সূচকের ওঠানামা সামঞ্জস্যহীন হয়ে পড়ছে। এটা স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয়। আর এজন্য বিনিয়োগকারীদের তথ্যসমৃদ্ধ এবং বিশ্লেষণভিত্তিক বিনিয়োগ করতে হবে। গুজবে বা অন্যের পরমর্শে বিনিয়োগ করলে এমনটি ঘটতে থাকবে। যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে সেটি সম্পর্কে যদি সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর ভালো ধারণা থাকে, তাহলে বাজার নিয়ে অহেতুক ভীতি থাকবে না। ফলে ইতিবাচক বা নেতিবাচক যে সংবাদই হোক না কেন তাতে বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ৫২ পয়েন্ট। আর এক দিনেই লেনদেন কমেছে ১০৯ কোটি টাকা। এদিন মাত্র ২২ শতাংশ বা ৭৬টি কোম্পানির দর বেড়েছে। গতকাল সব খাতই দরপতনে ছিল।  তবে ছোট মূলধনি কোম্পানিগুলোর দর বেশি বেড়েছে। লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে বস্ত্র খাত। এ খাতে লেনদেন হয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা বা ১৬ শতাংশ। আর দর বেড়েছে ৪৫ শতাংশ শেয়ারের, যা দরবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ছিল। লেনদেন অপরিবর্তিত ছিল। এ খাতের ম্যাকসন্স স্পিনিং, ইয়াকিন পলিমার ও আলহাজ টেক্সটাইল দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এর পরে ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৪ শতাংশ। এ খাতে মাত্র ২৫ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে।

প্রকৌশল খাতে ১৩ শতাংশ লেনদেন হয়। এ খাতের মুন্নু স্টাফলার দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। ব্যাংক খাতের লেনদেন নেমে আসে ১১ শতাংশে। এ খাতে মাত্র ১৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। র্সাড়ে ২৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়ে বাজারে নেতৃত্ব দিয়েছে ইউনিক হোটেল ও রিসোর্ট। শেয়ারটির দর বেড়েছে দুই টাকা ২০ পয়সা। এছাড়া গ্রামীণফোনের ১৫ কোটি টাকার, মুন্নু সিরামিক, ব্র্যাক ব্যাংকের ১৩ কোটি টাকার, স্কয়ার ফার্মার ১১ কোটি টাকার ও কেয়া কসমেটিকসের ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..