বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

তরুণদের সচেতনতাই জ্বালানি খাতকে আরও সুসংহত করবে

ওয়েবিনারে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, তরুণদের আগ্রহ ও সচেতনতাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আরও সুসংহত করবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া আবশ্যক। সচেতনতাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করবে। গত বুধবার রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল রিসার্চ গ্রুপের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক লাইভ ওয়েবিনারে তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করেন। প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান (পিএসএমপি) ব্যাখ্যা করে বলেন, জাইকা বাংলাদেশের মানুষের আয়, বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রবৃদ্ধি, জ্বালানির ব্যবহার শৈলী প্রভৃতি দীর্ঘ সময় গবেষণা করে ‘পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান (পিএসএমপি), ২০১০’ প্রণয়ন করেছে। সময়ের প্রয়োজনে তা পর্যালোচনা করে পিএসএমপি-২০১৬ গৃহীত হয়েছে। ২০৪১ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি মিশ্রণ কী হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সাশ্রয়ী ব্যবহার প্রভৃতি সুচারুভাবে পিএসএমপি’তে বলা হয়েছে। এই উপ খাতগুলোর স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ২৩ হাজার ৪৩৬ (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ) মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা হওয়ায় বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী শতকরা ৯৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে। ৫৮ লাখ সোলার হোমসিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে অফ-গ্রিড এলাকার মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জমির প্রাপ্যতা, জ্বালানি পরিবহন সুবিধা এবং লোড সেন্টার বিবেচনায় পায়রা, মহেশখালী ও মাতারবাড়ী এলাকাকে ‘পাওয়ার হাব’ হিসেবে চিহ্নিত করে মেগাপ্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক রামপাল এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল প্রজেক্ট, মাতারবাড়ী এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল প্রজেক্ট এবং পায়রা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প স্থাপনের কার্যক্রম পুরোদমে চলছে।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ৬২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে এবং মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বেসরকারি পর্যায়ে বিল্ডিংয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে জনপ্রিয় করার জন্য ‘নেট মিটারিং গাইডলাইন’ প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ভারত  থেকে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। নেপালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং একটি আইপিপি থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নেগোসিয়েশন চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে ত্রিদেশীয় সমঝোতা স্বাক্ষর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যিক জ্বালানির অধিকাংশ পূরণ করে। দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রের সংখ্যা ২৭টি, যার মধ্যে ২০টি বর্তমানে উৎপাদনে আছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে গ্যাসের উৎপাদন ছিল দৈনিক এক হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দুই হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক, দ্বিতীয় প্রেক্ষিত ও বদ্বীপ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন আধুনিক জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে ব্যাপক ভিত্তিতে দেশজ গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য অফশর ও অনশরে সাইসমিক জরিপ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

এছাড়া নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপ্রচলিত পদ্ধতির মাধ্যমে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তেল-গ্যাস আমদানির মাধ্যমে জ্বালানির বর্ধিষ্ণু চাহিদা পূরণের জন্য এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, গভীর সমুদ্র থেকে তেল সরাসরি পাইপের মাধ্যমে গ্রহণ, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে তেল সরবরাহের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ সময় তিনি কয়লা, কঠিন শিলা, খনিজ বালিসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ কুমার সাহা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..