সুশিক্ষা

তরুণ মনে বিজয় ভাবনা

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। বিজয়ের জন্য সাত কোটি বাঙালিকে বেছে নিতে হয়েছিল সংগ্রামের পথ। সংগ্রামের পর যে লাল-সবুজ পতাকা অর্জিত হয়েছে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, যে মানচিত্রের জন্য সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে দুই লাখ মা-বোনকে, সেই বিজয়ের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব তরুণদের। এখন সোনার বাংলা গড়তে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যেতে হবে তরুণদের। বিজয়ের এত বছর পর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে কী ভাবছে তারা? দেশকে নিয়ে তাদের স্বপ্ন কী? কয়েক তরুণের বিজয় ভাবনা তুলে ধরেছেন অনিক আহমেদ

সান্তাহার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মির্জা গালিব বেগ ছাফি বলেন, বিজয়ের অনুভূতি সব সময় আনন্দের। তবে আনন্দের পাশাপাশি বেদনাও কম নয়। আমরা সেই বীর শহীদদের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের কথা কোনোদিন ভুলব না। ভুলতে পারব না নির্যাতিত মা-বোনদের আত্মত্যাগ। যতদিন এই দেশ থাকবে, ততদিন গভীর শ্রদ্ধায় বাঙালি জাতি তাদের স্মরণ করবে। শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই নয়, আমাদের বাঙালি জাতির পুরো ইতিহাস অন্তরে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারলে তবেই দেশকে ভালোবাসা হবে, বিজয় দিবসের আনন্দ সার্থক হয়ে উঠবে।

হাজী কাশেম আলী মহিলা কলেজের মুনিয়া আজম মায়শার মতে, আমাদের সবচেয়ে প্রিয় ও ভালোবাসার দিবসটি ১৬ ডিসেম্বর। নতুন প্রজš§ বিজয় দেখেনি, শুনেছে ও জেনেছে। তার মতে, সবাইকে বিজয় দিবসের অর্জন হƒদয়ে ধারণ করে নতুনদের কাছে তা তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নির্যাতন-নিষ্পেষিত হওয়ার কথা জানাতে হবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর চালানো হয়েছে নির্মম নিপীড়ন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অসংখ্য প্রাণের আত্মদান এবং তাদের ওপর চালানো অত্যাচার-নির্যাতনের কথা জানলে শিউরে উঠবে তরুণপ্রাণ; একই সঙ্গে দেশের প্রতি জাগবে তাদের মমত্ববোধ।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল্লাহ আল মুবাশ্বির বলেন, স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। আর সে স্বাধীনতা যদি হয় ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে, তাহলে এ স্বাধীনতা বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, তা পুরো বিশ্বকে যেমন বিস্মিত করেছিল, ঠিক তেমনি অত্যাচারীদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলÑঅন্যায়ভাবে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে বেশিদিন শৃঙ্খলিত করে রাখা যায় না।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাতেমা আক্তার মনিকা বলেন, লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরও তারাই বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের কাছে আদর্শের ও তারুণ্যের উৎস। আজকের তরুণ হিসেবে স্বাধীনতার জন্য আমার পূর্বপুরুষের লড়াই দেখিনি, কিন্তু হƒদয়ে বাঁধতে পেরেছি তাদের। আর তাই তো লাল-সবুজের পতাকায় ফসলের মাঠে কৃষকের হাসিতে অনুভব করি বিজয় উল্লাস। বিজয় আজও আমার কাছে তরুণই রয়ে গেছে।

বীর উত্তম শহীদ সামাদ কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন ইসলাম সোহান বলেন, এ বিজয় আজও যেকোনো ক্ষেত্রে আমাদের জয় ছিনিয়ে আনতে প্রেরণা জোগায়। পাকবাহিনীর কাছ থেকে যদি আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারি, তা হলে আজ কেন আমরা দেশের অভ্যন্তরীণ দলাদলি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাশবিকতাকে পরাভূত করে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছি না? সব বাংলাদেশির মতো আমিও স্বপ্ন দেখি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..