Print Date & Time : 13 April 2021 Tuesday 6:45 pm

তাইওয়ানকে চাপে না রাখতে চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

প্রকাশ: January 24, 2021 সময়- 09:20 pm

শেয়ার বিজ ডেস্ক : তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগ বন্ধ করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে শনিবার চীনের আটটি বোমারু ও চারটি ফাইটার জেট বিমান তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিমের বিমান প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন অভিযোগের পরই অঞ্চলটির ওপর চাপ প্রয়োগ থামাতে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানায় ওয়াশিংটন। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট নামে রণতরীর নেতৃত্বে এ নৌবহরটি সাগরে প্রবেশ করে। খবর: রয়টার্স।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, তাদের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশ দিয়ে চীনের আটটি বোমারু বিমান ও চারটি যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করেছে। শনিবারের এই অনুপ্রবেশের ওপর ‘নজরদারি’ করতে তাইওয়ানের বিমানবাহিনী তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোতায়েন করেছিল বলে জানিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা বেইজিংকে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে তার সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বন্ধের আহ্বান জানাই। চাপ প্রয়োগের বদলে বেইজিংকে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপে অংশ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর প্রবেশ করল। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার এই নৌবহর প্রবেশ করেছে। এই নৌবহর সাগরের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালাবে।

বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের বড় অংশের মালিকানা দাবি করে আসছে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই সেখানে নৌযান পাঠায়। চীন অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ চীনের দখলকৃত দ্বীপের কাছাকাছি। এসব দ্বীপের আশেপাশে রয়েছে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ব্রুনেই ও তাইওয়ান। সব দেশই দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন অংশের মালিকানা দাবি করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন নৌবহরে রয়েছে টিকোনডেরোগা-ক্লাস গাইডেড মিসাইল ক্রুজার ইউএসএস বাংকার হিল এবং আলেইগ বার্কে-ক্লাস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস রাসেল, ইউএসএস জন ফিন। 

চীন-তাইওয়ান বিরোধের সূত্রপাত ১৯২৭ সালে। ওই সময় চীনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ। ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা জাতীয়তাবাদী সরকারকে উৎখাতের মধ্য দিয়ে এ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। জাতীয়তাবাদী নেতারা পালিয়ে তাইওয়ানে যান। এখনও তারাই তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিকভাবে ওই সময় যুদ্ধ বন্ধ হয়ে পড়লেও উভয় দেশই নিজেদের চীনের দাবিদার হিসেবে উত্থাপন শুরু করে। তাইওয়ানভিত্তিক সরকার দাবি করে, চীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের দ্বারা অবৈধভাবে দখল হয়েছে। আর চীন সরকার তাইওয়ানকে বিচ্ছিন্নতাকামী প্রদেশ হিসেবে বিবেচনা করে।