বিশ্ব সংবাদ

তাইওয়ানে ১৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার বিজ ডেস্ক: পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, চীনকে চাপে রাখতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পেন্টাগন বলছে, চুক্তি অনুযায়ী তিন ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থা তাইওয়ানের কাছে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রকেট লঞ্চার, সেন্সরস ও আর্টিলারি।

চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর ১৯৪৯ সালে তাইওয়ান চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ বিচ্ছিন্নতা না মেনে তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে চীন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভূখণ্ড ফিরে পেতে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেয়নি বেইজিং।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও ব্রায়েন বলেন, তাইওয়ানে আক্রমণের জন্য চীন প্রস্তুত বলে মনে করেন না তিনি। তবে ভবিষ্যতের জন্য দ্বীপটিকে নিজেদের শক্তিশালী করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা এসব অস্ত্র বিশ্বাসযোগ্য লড়াইয়ের সক্ষমতা তৈরি এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধের উন্নয়নকে দৃঢ় করবে।

চুক্তি অনুযায়ী, টার্গেটে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্রুজ মিসাইল ১৩৫, যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সক্ষম মোবাইল লাইট রকেট লঞ্চার ও এয়ার রিকনেইস্যান্স পড কিনবে তাইওয়ান।

কয়েক মাস ধরে তাইওয়ানে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা ব্যাপক বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার একজন রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা-বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার গত আগস্টে তাইওয়ান সফরে যান। সেই সময় এই দ্বীপ ভূখণ্ডের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ওই প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় চীন। একই সঙ্গে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের গুরুতর ক্ষতি এড়াতে তাইওয়ানের স্বাধীনতার ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কোনো ভুল সংকেত দেওয়া উচিত হবে না বলেও সতর্ক করে দেয় বেইজিং।

যদিও তাইওয়ানের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় সম্প্রতি চীন সামরিক মহড়া বৃদ্ধি করে।

ইউএস-তাইওয়ান বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট রুপার্ট হ্যামন বলেন, তাইওয়ানিজ ফোর্সকে অত্যাধুনিক করতে এই অস্ত্র কেনা খুবই জরুরি, যেখানে চীনের শক্তিকে পাল্টা প্রতিরোধ (আক্রামণ) করা যাবে। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে তাইওয়ানের জন্য চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) হুমকিকে রুখে দেবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..