প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

তামাকজাত দ্রব্যে সুনির্দিষ্ট করারোপ করা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট হারে করারোপের পক্ষে মত দিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। জাতীয় সংসদের পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে গতকাল ‘জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রত্যাশিত তামাক কর ব্যবস্থাপনা ও করণীয়’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় জাতীয় সংসদের সদস্যরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। দ্য ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারির সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এসএম আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা-১ আসনের মো. সামসুল হক টুকু। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুনর রশিদ ও সংরক্ষিত নারী আসনের আবিদা আঞ্জুম মিতা। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত, নীলফামারী-৩ আসনের রানা মোহাম্মদ সোয়াইল ও সংরক্ষিত নারী আসনের অপরাজিতা হক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসিসি) সমন্বয়কারী হোসেন আলী খন্দকার, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপচার্য অধ্যাপক ড. গণেশ চন্দ্র সাহা, হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী, ক্যানসার হোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দীন ফারুক, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের প্রোগ্রাম হেড মো. শফিকুল ইসলাম, দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রুমানা হক।

সামসুল হক টুকু বলেন, তামাকের উচ্চ মূল্য তামাক ব্যবহারে বিশেষ করে কিশোর তরুণদের তামাকের ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত করে। সুনির্দিষ্ট করারোপ করে তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বাড়ানোর বিষয়টি সরকারকে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাবে প্রতি বছর দক্ষিণ এশিয়ায় ১৫ লাখ মানুষের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু ঘটে; এ মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। নতুন নতুন তামাক ব্যবহারকারীদের রুখতে তামাকের ওপর কর বাড়াতে হবে। তামাকমুক্ত দেশ গড়তে দ্রুত একটি জাতীয় তামাক করনীতি প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে আগামী অর্থবছরেই তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট করারোপের দাবি জানাচ্ছি।

হারুনর রশিদ বলেন, প্রতি বছর ১৮ লাখ মানুষকে তামাক থেকে বিরত করতে হবে এবং নতুনদের তামাকে ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে হবে। তামাকের ব্যবহার যদি রোখা না যায় তবে আমরা এসডিজি লক্ষ্য পৌঁছাতে পারব না। তামাকের মতো ক্ষতিকর পণ্য বিক্রিতে অবশ্যই লাইসেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে। তামাক কোম্পানিগুলোর ফাঁকি রোধে ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। তামাক চাষের জমিগুলোকে তালিকাভুক্ত করে নানা প্রণোদনা দিয়ে তাদের এ চাষ থেকে বিরত করতে হবে।

ডা. হাবিবে মিল্লাত বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় কর নীতি থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করতে সুবিধা হবে। এ জন্য সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা আছে। চার স্তরভিত্তিক অ্যাডভেলরেম করারোপ পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট করারোপের মাধ্যমে অতিদ্রুত সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে অনলাইন সফটওয়ার জুমের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা তামাক নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন। একইসঙ্গে সংসদ সদস্যদের তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখায় ভূয়সী প্রশংসা করেন।